অন্ধদের ক্ষতিগ্রস্ত চোখের বদলে সরাসরি মস্তিষ্কে ভিজ্যুয়াল তথ্য সরবরাহ করে দেখার জন্য এক যুগোপযোগী নতুন উপায় নিয়ে এসেছেন বিজ্ঞানীরা।

‘সেল’ সাময়িকীতে সম্প্রতি এ গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের হাউসটনের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের গবেষকেরা বলেছেন, তাঁরা দৃষ্টিহীনদের মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে দেখার সুযোগ তৈরির লক্ষ‌্যের আরও একধাপ কাছে এগিয়ে গেছেন।

বেশির ভাগ দৃষ্টিহীন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে অন্ধত্ব সাধারণত চোখ বা অপটিক নার্ভের ক্ষতি হওয়ার ফলে ঘটলেও মস্তিষ্ক অক্ষত থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে চোখের ব‌্যবহার না করেও যাতে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে দেখার সুবিধা দেওয়া যায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন গবেষকেরা। তাঁরা এমন একটি ডিভাইস তৈরিতে কাজ করছেন, যা একটি ক্যামেরা থেকে সরাসরি মস্তিষ্কে ছবি পাঠাতে পারে।

গবেষকেরা এমন একটি পদ্ধতির বর্ণনা করেছেন, যাতে দৃষ্টিহীনদের ‘ইলেকট্রোড ইমপ্ল‌্যান্টস’ বসাতে হয়, যা তাদের বিভিন্ন আকার ও অক্ষর দেখাতে পারে।

বেলোরের নিউরোসার্জারির অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ইয়োশর বলেন, ‘যখন আমরা রোগীদের মস্তিষ্কে সরাসরি অক্ষর শনাক্ত করতে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা ব্যবহার করি, তখন তারা উদ্দেশ্যযুক্ত অক্ষর ও আকার দেখতে সক্ষম হয়। বিভিন্ন অক্ষরকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তারা উজ্জ্বল বিন্দু বা সারিকে অক্ষরে পরিণত হতে দেখার কথা বলেছে, যা অনেকটাই আকাশে লেখার মতো।

এর আগে ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সকে উত্তেজিত করার প্রচেষ্টাগুলো খুব বেশি সফলতার মুখ দেখেনি। আগের পদ্ধতিগুলেো প্রতিটি ইলেক্ট্রোডকে ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লেতে পিক্সেলের মতো করে ফুটিয়ে তোলে বলে কোনো আকার বা অক্ষর শনাক্ত করতে সমস‌্যা হয়।

গবেষক মাইকেল বিউচ্যাম্প বলেন, ‘একাধিক আলোক থেকে আকার তৈরির চেষ্টা করার পরিবর্তে আমরা আউটলাইন ধরার চেষ্টা করেছি। এ জন্য আমাদের অনুপ্রেরণা ছিল কারও হাতের তালুতে একটি চিঠি লেখার বিষয়টি ধরার চেষ্টা করার ধারণা।’

গবেষকরা ধারণা করছেন, নতুন পদ্ধতিটি প্রমাণ করে যে দৃষ্টিহীন লোকদের পক্ষে আকার ও অক্ষর শনাক্তকরণ ক্ষমতা ফিরে পাওয়া সম্ভব, যদিও কৌশলটি নিখুঁত করার ক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে। পরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো হাজারো ইলেক্ট্রোডের সঙ্গে কাজের উপযোগী প্রযুক্তি বিকাশের জন্য নিউরোইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কাজ করা, যাতে নিখুঁতভাবে দেখার সুবিধা তৈরি করা যায়।

গবেষক বিউচ‌্যাম্প বলেন, নতুন হার্ডওয়্যার আর উন্নত উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী অ্যালগরিদম দৃষ্টিহীনদের জন‌্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।