মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা

রাজাকারের তালিকা করার বিধান রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২০ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বা আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তাদের তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। বিদ্যমান আইনে এই বিধান নেই।

রাজাকারের তালিকা প্রণয়নে আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগে আইনটি হোক। বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়নি। এ ছাড়া প্রস্তাবিত আইনে আগের মতো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন, অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে তা করলে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিভিন্ন বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০০২ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ছিল। সেই আইন পরিপূর্ণভাবে বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের খসড়া করেছে। এই আইন পাস হলে আগের আইন বাতিল হয়ে যাবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আইনের খসড়ায় মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নিবন্ধন কীভাবে হবে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান সংগঠনের নিবন্ধনের বিধান, কাউন্সিলের কার্যকলাপ পরিচালনা, কীভাবে অর্থায়ন হবে, কাউন্সিলের তহবিল ও বাজেট কীভাবে হবে এসব বিষয় রাখা হয়েছে। আগের আইনকে বদলে এ আইন করা হচ্ছে।’

নতুন আইন অনুযায়ী অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে গেজেটভুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবে বলেও জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।