বসানো হলো পদ্মা সেতুর ৩৮তম স্প্যান; বাকি রইলো ৩টি স্প্যান

পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছে ৩৮তম স্প্যান ‘ওয়ান-এ’। এতে সেতুর ৫ হাজার ৭০০ মিটার দৃশ্যমান হলো। সম্পূর্ণ সেতু দৃশ্যমান হতে এখনও বাকি আছে ৩টি স্প্যান।

শনিবার মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় স্প্যানটি।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের ৯ ও ১০ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয় ৩৭তম স্প্যান। বাকি ৪টি স্প্যানের মধ্যে একটি বসল আজ। সর্বশেষ তিনটি স্প্যান বসবে ডিসেম্বরের মধ্যেই।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও কারিগরি সমস্যা দেখা না দেওয়ায় আজ দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের সময় স্প্যানটি বসানো হয়। এতে দৃশ্যমান হল সেতুর ৫ হাজার ৭০০ মিটার অংশ।

এর আগে শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেন ‘তিয়াইন-ই’-১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩৮তম স্প্যানটি নিয়ে নির্ধারিত পিলারের উদ্যেশ্যে রওনা হয়।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, ৩৮তম স্প্যানটি বসানোর পর চলতি মাসে মোট ৩টি স্প্যান বসানো সম্ভব হল। ৩৭তম স্প্যান বসানোর ১০ দিনের মধ্যে এই স্প্যান বসানোর কার্যক্রম শুরু হলো। 

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের জানান, ‘স্প্যানটি গত ১৬ নভেম্বর বসানোর পূর্ব সিডিউল ছিল। তবে নির্ধারিত দুটি পিলার একটি ডাঙায় (স্থলে) ও অপরটি নদীতে থাকায় ড্রেজিং করে পিয়ার দুটির মাঝের স্থানটি স্প্যানবাহী ভাসমান ক্রেনের চলাচলের উপযোগী করতে হয়। এরপর কারিগরি অন্যান্য খুঁটিনাটি যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করতে আরো কয়েকদিন সময় লেগে যায়।’

সবচেয়ে শুরুর স্প্যান হলেও এটি এত দেরিতে বসার আরেকটি কারণ হলো, ইংরেজি ‘এইচ’ বর্ণমালা আকৃতির পদ্মা সেতুর প্রতিটি স্প্যানের ডিজাইন আলাদা। এ ছাড়া অনান্য পিলারের চেয়ে ১ নম্বর পিলারের গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণত অন্য পিলারগুলোতে ৬ থেকে ৭টি পাইল ব্যবহার করা হলেও শক্তিশালী এ পিলারটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৬টি পাইল। এ পিলার দিয়েই সেতুতে গাড়ি ও ট্রেন প্রবেশ করবে।

মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।