দ্বিতীয় ধাপে ভাসানচরের পথে আরো ১১৩৪ রোহিঙ্গা

কক্সবাজারের শিবির থেকে দ্বিতীয় দফায় আরো প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে।  

সোমবার দুপুর পর্যন্ত ইতোমধ্যে ২০টিরও বেশি বাস ১ হাজার ১৩৪ জন রোহিঙ্গা নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছে। ছেড়ে যাওয়া প্রত্যেক বাসে ৩০ জন করে সদস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এসব গাড়ি বহরের আগে ও পেছনে পুলিশের গাড়ি এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের নৌ-বাহিনীর ঘাট থেকে নৌপথে তাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে।

আগের মতো উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকা থেকে তিন দলে ভাগ করে বাসগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। উখিয়ার মূল ক্যাম্প ছাড়াও পুরো ৩৪টি ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গারা ট্রানজিট পয়েন্টে রবিবার বিকেল থেকে আসতে শুরু করে। বাকিরা সোমবার সকাল ও দুপুরে এসে পৌঁছায়।

এর আগে ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রথম দলে এক হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্বিতীয় দল প্রথমে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। যেখানে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে।  

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অব্যাহত হামলা, নিপীড়ন ও হত্যার কারণে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এরাসহ বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে বসবাস করছে।

ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলো থেকে সরিয়ে নিরাপদে রাখতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরে নিজস্ব অর্থায়নে বিপুল ব্যয়ে আশ্রয়ক্যাম্প নির্মাণ করে সেখানে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে সরকার।