পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরে কেউ ফুর্তি করতে বের হবেন না। আমরা যে যেখানে আছি সেখানে অবস্থান করি। কোনভাবে বাসা থেকে বের না হই। একই সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে না যাই। আমি, আমার পরিবার, গ্রাম এবং সমাজকে নিরাপদে রাখি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

বেনজীর আহমেদ বলেন, বেঁচে থাকলে অনেক ঈদ করতে পারবেন, কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি গিয়ে ঈদ করা যেন শেষ ঈদ না হয়। আপনার কারণে শুধু আপনি নন, আপনার পরিবারের সদস্যরাও মৃত্যুঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন গুরুত্বপূর্ণ। ঈদে আনন্দ করার জন্য নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দূত হয়ে পরিবারের সামনে হাজির হবেন না। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সরকারের নির্দেশনা মানতে হবে।’

আইজিপি বলেন, গত এপ্রিল মাসে দেশে মাত্র ২৪ জেলা করোনা সংক্রমিত ছিল। কিন্তু পরে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের ফলে সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

পুলিশ কেন কঠোর হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘সরকার দেশের মানুষের জন্য যা ভালো সেটা করছে। দেশে অনেক প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছে। সরকারকে সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক দেশ মানুষকে ঘরে রাখতে শক্তি প্রয়োগ করলেও আমরা কোনো শক্তি প্রয়োগ করিনি।’

তথ্য প্রকাশের অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, গুজব ছড়ানো অপরাধ। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ দেশবিরোধী অবস্থান নিলে কেউ তা মেনে নেবে না। জনগণকে বিভ্রান্ত করার অধিকার কারও নেই। করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

পুলিশের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারন জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ তার দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে, এখনো করছে। ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ অনেক কাজ করেছে। যেখানে লাশের কাছে পরিবারের কেউ যেতে চায়নি, সেখানে পুলিশ গিয়েছে। এ রকম হলে আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। তবে পুলিশের জন্য আগাম সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের পুলিশই না, বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাও আক্রান্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মাঈনুর রহমান চৌধুরী, বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি মীর শহীদুল ইসলাম, ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।