রাগ নিয়ন্ত্রণের ৫ উপায়

সুখ এবং দুঃখের মতো রাগও আবেগ প্রকাশের একটি মাধ্যম। একজন লোক যখন খুব রেগে যায়, তখন আরেকজন খুব অল্প সময়ের জন্য রাগ করতে পারে। কিন্তু কম বা বেশি রাগ যেমনই হোক না কেন তা মোটেই ভালোতো নয়ই বরং এটি শরীর ও মন দুটোর জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে।

এখানে কয়েকটি সাধারন অভ্যাসের উল্লেখ করা হলো যা বর্তমানে রাগ নিয়ন্ত্রন করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।

স্থান ত্যাগ করা: যখনই আপনি রেগে যাবেন, তখনই রাগ করা স্থান থেকে সরে যাওয়া ভালো। সেক্ষেত্রে নির্জন কোন স্থানে বসে একটু সময় নিন, নিঃশ্বাস নিন এবং ভাবুন রাগের মাথায় আপনার উচ্চারিত কথাগুলো কি পরিনাম ডেকে আনতো এবং নিজেদের সম্পর্কে কতোটা ক্ষতির কারণ হতো। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলে আপনার ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রয়োজন সম্পর্কে শান্তভাবে বসে দুজন কথা বলুন।

শব্দ চয়ন: আপনি যখন রেগে যাবেন, তখন অন্যদের অসম্মান করে কথা বলার ঝোঁক থাকে। তাই চেষ্টা করুন এমন শব্দ ব্যবহার না করতে যেসব শব্দ অন্যকে ছোট করে এবং সম্পূর্ণ দোষ তাদের উপরে পড়ে। সব সময় ভুল ধরার পরিবর্তে সমস্যা সমাধানের অভ্যাস আয়ত্ত্ব করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য পরামর্শ দিন।

সঙ্গীত চিকিৎসা: মিনিটের মধ্যে মেজাজ পরিবর্তন ক্ষমতা রয়েছে সঙ্গীতের। মনের উপর সঙ্গীতের একটি শান্ত ও সিগ্ধ প্রভাব রয়েছে। তাই এখন রোগীর রাগ নিয়ন্ত্রনের জন্য অনেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সঙ্গীতকে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

শিথিলিকরণ অনুশীলন: যখনই আপনি রেগে যাবেন পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলুন এবং শিথিলিকরণ পদ্ধতি অনুশীলন করুন। যেমন, ১০ মিনিটের জন্য গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিন অথবা মেডিটেশন করুন এবং সম্ভব হলে যোগব্যায়াম করুন। যোগব্যায়াম আপনার মনকে শান্ত হতে এবং আপনার ভাবনাগুলোকে কেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করে। এমন পরিস্থিতিতে আপনি পার্কে হাঁটতেও যেতে পারেন অথবা নিজেকে রঙিন করার যেকোন পদ্ধতি

ক্ষমা করা: আপনি শান্তি খুঁজে পাবেন না, যদি মনে ক্ষোভ জমিয়ে রাখেন। যাদের কারণে আপনি রেগে যান তাদের যদি আপনি ক্ষমা করতে না পারেন তাহলে আপনি সব সময় রেগে থাকবেন এবং তা আশেপাশের সবার উপর প্রভাব ফেলে। আপনার আবেগ প্রকাশ করুন, নেতিবাচক আবেগ মন থেকে সরিয়ে ফেলতে চেষ্টা করুন। অবশেষে তাদের ক্ষমা করে দিন। এই ক্ষমা করার অভ্যাস আপনার ভালোবাসার মানুষের সাথে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।