প্রোটিনসমৃদ্ধ ডাল খাবার তালিকায় রাখতে সবাই পছন্দ করেন। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ ডাল থেকেই পেয়ে থাকি। বাজারে সাধারণত পাঁচ রকম ডাল পাওয়া যায়।

তবে আমরা জানি না কোন ডালে পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি ও কোন ডাল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

জেনে নিন ৫ ধরনের ডালের পুষ্টিগুণ-

মুগ ডাল: বাজারে দুই ধরনের মুগ ডাল পাওয়া যায়। একটি খোসা ছাড়া হলুদ রঙের, অন্যটি খোসাসমেত সবুজ রঙের। এই ডাল খুব সহজে হজম হয়ে যায়। এই ডাল প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ফাইবার ও ভিটামিন বি১-এ ভরপুর।

উপকারিতা: ওজন কমায়, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমায় ও গর্ভবতী নারীদের জন্য মুগডাল খুবই উপকারী।

মসুরি ডাল: শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ফাইবার, পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি১ প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় মসুরি ডাল থেকে। লাল রঙের মসুরি ডালের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও প্রোটিন থাকে। মাত্র এক কাপ মসুর ডালে ২৩০ ক্যালোরি, প্রায় ১৫ গ্রাম ফাইবার এবং ১৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

উপকারিতা: মসুরি ডাল পেটের সমস্যা, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি, শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ এবং শরীরে জমে থাকা কোলেস্টেরল দূর করে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

অড়হর ডাল: অড়হর ডাল বেশিরভাগ মানুষই খুবই পছন্দ করেন। বিভিন্নভাবে খুবই সুস্বাদু এই ডাল প্রস্তুত করা হয়। এই ডালে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি এবং পটাসিয়াম থাকে। শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে এই ডাল।

উপকারিতা: অড়হর ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এ ছাড়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে স্ট্রোক ও ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এতে থাকা ফলিক অ্যাসিড নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই ডাল কার্বোহাইড্রেটের একটি ভালো উৎস। এর সাহায্যে দেহের শক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিউলির ডাল: এই ডাল বাজারে দুই রকম রূপে পাওয়া যায়। একটি খোসা ছাড়া সাদা রঙের, আর একটি কালো। পাঁপড় তৈরির কাজেও ব্যবহৃত হয় এই ডাল। পুষ্টিতে ভরা এই ডাল যেমন সুস্বাদু তেমনি বিভিন্ন গুণে ভরপুর।

উপকারিতা: এই ডালে প্রচুর পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়। পেটের জ্বালা দূর করতে উপকারী। এছাড়া ত্বককে চকচকে ও উজ্জ্বল করে তোলে এই ডাল।

ছোলার ডাল: ছোলার ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও প্রোটিন পাওয়া যায়। এই ডাল শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহ করে।

উপকারিতা: এই ডাল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। এতে কোলেস্টেরলের পরিমাণ খুবই কম। এ ছাড়া ছোলার ডাল খাওয়া রক্তস্বল্পতা, জন্ডিস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের দূর করে।