ভিটামিন এ-র উপকারিতা

একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটে শরীরের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি ও খনিজ উপাদান থাকে। প্রত্যেকটি ভিটামিনের নিজস্ব কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, তাই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রত্যেকটি ভিটামিনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

ভিটামিন এ সাধারনত দৃষ্টিশক্তির জন্য ভালো। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে ভিটামিন এ বাড়তি মেদ ঝড়াতেও সাহায্য করে।

বাড়তি মেদ ঝাড়ানো ছাড়াও ভিটামিন এ-র অন্যান্য উপকারিতাগুলো এখানে তুলে ধরা হলো:

* স্বাস্থ্যকর দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখার জন্য ভিটামিন এ একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এটি বিশ্বাস করা হয় যে, ভিটামিন আলোকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করতে এবং মস্তিষ্কে প্রেরণ করতে সাহায্য করে, যা পরে চিত্রটি প্রক্রিয়া করে এবং আমাদের জিনিসগুলো দেখতে দেয়। রাতকানা রোগ এবং বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয় প্রতিরোধ করার জন্য ভিটামিন এ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

* ভিটামিন এ চোখ, নাক ও অন্ত্রে থাকা শ্লেষ্মীয় বাধাগুলোর সঠিক কার্যকারিতা বজায় রেখে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এই বাধাগুলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে সংক্রমণের প্রবেশ রোধ করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন এ শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতেও সাহায্য করে যা দেহের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

* কিছু গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, যাদের শরীরে ভিটামিন এ এর মাত্রা কম থাকে তাদের ফ্র্যাকচার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বাচ্চাদের হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্যও ভিটামিন এ একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ভিটামিন এ-র উৎস: ভিটামিন এ দুই প্রকারে পাওয়া যায়। এক- প্রিফর্মড ভিটামিন এ, দুই- প্রো ভিটামিন এ। প্রিফর্মড ভিটামিন এ প্রাণীর দেহ যেমন: মুরগীর মাংস, খাসির মাংস ইত্যাদি থেকে পাওয়া যায়। আর প্রো ভিটামিন এ পাওয়া যায় উদ্ভিজ্জ বিভিন্ন খাবার থেকে। তবে সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রো-ভিটামিন এ হলো বিটা ক্যারোটিন।

কিছু প্রিফর্মড ভিটামিন এ-র উৎস হলো: দুধ, দই, ডিম, মাংস, চিজ, মুরগী ও খাসির যকৃত ও কিডনি, মাছের তেল এবং ক্রিম।

বিটা ক্যারোটিনের ভালো উৎস হলো হলুদ, লাল ও সবুজ শাক-সবজি যেমন: গাজর, পালং শাক, ক্যাপসিকাম এবং মিষ্টিআলু।