কিডনি ডায়ালাইসিসের সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায়

ডায়াবেটিস হলো দুরারোগ্য কিডনি রোগের একটি অন্যতম কারণ। ডায়াবেটিসের কারনে শরীরে উচ্চ শর্করার উপস্থিতি ঘটে। এর ফলে কিডনির রক্তনালীকে অকেজো করে দেয়, যা কিডনির রোগ বা কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান কারণ। আর কিডনি রোগ আক্রান্ত রোগী ৫ম স্তরে পৌঁছে গেলে রেগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়। সেক্ষেত্রে ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এখানে কিডনি ডায়ালাইসিস চলাকালীন সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার কয়েকটি টিপস উল্লেখ করা হলো:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস:

– রক্তে শর্করার পরিমান নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত তিন বেলার খাবার গ্রহণ করতে হবে। মাঝের সময় কিছু হালকা খাবারও গ্রহণ করা যেতে পারে।

– উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার, বিশেষ করে তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।

– অল্প পটাসিয়ামযুক্ত ফল এবং সবজি খেতে হবে। কারণ এ সকল খাবারে অাঁশের পরিমান বেশি থাকে।

– চিনির বিকল্প ব্যবহার করতে হবে।

– অপ্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন: শস্য জাতীয় খাবার, সবজি, ফল, কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধ খাবার এবং চর্বিহীন মাংস খেতে হবে।

– শরীরে ক্যালরির পরিমান ঠিক রাখতে তিন বেলা পরিমানমতো খাবার গ্রহণ করতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঔষধ গ্রহণ:

– ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তে শর্করার উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে।

– ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন করা ঔষধ নিয়মিত নিতে হবে।

– ডায়ালাইসিসের সময় রক্তে গ্লুকোজের পরিমান, বিশেষ করে ডায়ালাইসিস চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম:

– ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

– প্রতিদিন সামান্য ব্যায়াম বা সপ্তাহে তিন দিন ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে।

– যোগব্যায়াম দেহ ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।

এছাড়াও ডায়ালাইসিস চলাকালে পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, ইনসুলিন (যদি প্রয়োজন হয়) ও ঔষধ গ্রহণ এবং শারিরীকভাবে সক্রিয় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।