কফি গ্রহণের উপকারিতা

কফি জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে একটি। কফিতে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস এবং কিছু উপকারী পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা শরীরের এনার্জি লেবেল বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। এছাড়া কফি গ্রহনকারীরা অন্য পানীয় গ্রহনকারীদের থেকে কিছু মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার কম ঝুঁকিতে থাকে।

কফি গ্রহনের কিছু উপকারী দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

হতাশা কমাতে: কফি ডিপ্রেশন বা হতাশা কমাতে সাহায্য করে। ২০১১ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে যেসকল মহিলারা দিনে ৪ কাপ বা তার চেয়ে বেশি কাপ কফি পান করেন তাদের হতাশার পরিমান শতকরা ২০ ভাগ কম হয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা দিনে ৪ কাপ বা তার চেয়ে বেশি কাপ কফি পান করেন তাদের শতকরা ৫৩ শতাংশ আত্মহত্যার প্রবণতা কমে যায়।

ঘুমাতে সাহায্য করা: কফি গভীর ঘুমে সাহায্য করে। স্বল্প সময়ের জন্য ঘুমানোর আগে কফি পান করলে অ্যাডেনোসিনকে প্রভাবিত করে। অ্যাডেনোসিন এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা গভীর ঘুমে সাহায্য করে এবং ক্যাফিন গ্রহণের জন্য মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়। আর এমনিতেই বিশেষজ্ঞরা ১৫-২০ মিনিটের জন্য ঘুমানোর আগে ক্যাফিন গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়: সারা পৃথিবীতে মৃত্যুর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে ক্যানসার কিন্তু সুসংবাদ হলো কফি এই ক্যানসারের বিরুদ্ধেও লড়াই করে। নিয়মিত কফি পানকারীরা লিভার এবং কলোরেক্টাল ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে কম থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে ৪-৫ কাপ কফি গ্র্রহণ করে তাদের শতকরা ১৫ ভাগ কলোরেক্টাল ক্যান্সারে এবং শতকরা ৪০ ভাগ লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

টাইপ-২ ডায়েবেটিস: বর্তমান বিশ্বে কয়েক লক্ষ লোক টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মারাত্মক প্রভাবে রয়েছে। তবে নিয়মিত কফি পানকারীরা কিছু কারণে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কম ঝুঁকিতে থাকেন। প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন অন্তত এক কাপ কফি গ্রহণকারী ব্যক্তির টিইপ-২ ডায়েবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৭ ভাগ কমে যায়।

দীর্ঘায়ু: ২০ বছরের একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কফি গ্রহণকারীরা দীর্ঘায়ু লাভ করে। গবেষণায় আরো দেখা গেছে যে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যারা কফি পান করেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ৩০ ভাগ কমে যায়। অন্য আরো একটি গবেষণায় দেখা যায় যে মহিলাদের ক্ষেত্রে অকাল মৃত্যু শতকরা ২৬ ভাগ কমিয়ে দেয় এই পানীয় আর ১৮-২৪ বছরের পুরুষদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায় শতকরা প্রায় ২০ ভাগ।

এছাড়া চর্বি কমানো এবং শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আরো কিছু উপকারিতা পাওয়ার জন্য আমাদের নিয়মিত এবং পরিমানমত কফি পান করা উচিত।