ওজন কমাতে প্রাতরাশের খাদ্য তালিকা

ওজন হ্রাস একটি কঠিন কাজ। ওজন বৃদ্ধি সাধারনত শারীরিক গঠন, জীবনধারা, বিপাকীয় হার, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং ডায়েটসহ আরও অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। তাই পুষ্টিকর এবং কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলো স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন হ্রাসের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে।

সুপারফুডগুলো (পুষ্টিকর খাবার) প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ করে যা শরীরে জমা হওয়া চর্বি দ্রুত ঝরতে সহায়তা করে। তাই দিনের গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে প্রাতরাশে এই সুপারফুডগুলো খেয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে।

ওটমিল: ওটমিল হলো প্রাতরাশের নিখুঁত খাবার কারণ এটি আপনার শরীরকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তি দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। ওটমিলে বিটা গ্লুকানও রয়েছে যা এক ধরণের দ্রবণীয় ফাইবার।

কলা: কলায় প্রচুর পরিমানে ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে। এই ফলটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করে। কলা পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের একটি ভাল উৎস, যা হার্টের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম: যারা ওজন কমাতে ইচ্ছুক তাদের জন্য ডিম হলো প্রাতরাশের আরেকটি স্বাস্থ্যকর খাবার। ডিমে ক্যালরি কম এবং প্রোটিনের পরিমান বেশি থাকে। এছাড়া ডিম খাবারের মাঝে পানি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও দূর করে।

বেরি: বেরি সুস্বাদু এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার। জনপ্রিয় মধ্যে মধ্যে রয়েছে ব্লুবেরি, রাস্পবেরি, স্ট্রবেরি এবং ব্ল্যাকবেরি। বেরিতে অন্যান্য ফলের তুলনায় চিনি কম থাকে এবং ফাইবার বেশি থাকে।

দই: দইতে এমন একটি প্রোটিন থাকে যা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় এবং সাধারণ কার্বোহাইড্রেটের চেয়ে হজমে বেশি সময় নেয়। তাই অতিরিক্ত ক্যালোরি থেকে বাঁচতে এবং অপ্রয়োজনীয় চিনি এড়ানোর জন্য জলখাবার হিসাবে প্লেইন দই বেছে নেয়া যেতে পারে, মিষ্টির জন্য এটিতে তাজা ফলও যুক্ত করা যেতে পারে।

গ্রীন টি: এটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টপূর্ণ। তাই এটি রক্তে শর্করা এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে এবং এটি শক্তির একটি প্রাকৃতিক উৎস। এটি চিনি ছাড়া পান করলে সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। প্রয়োজনে এতে লেবু বা মধুও যোগ করা যেতে পারে।

প্রতিদিন একই ধরনের খাবার গ্রহণ না করে, উপরের তালিকা থেকে একেক দিন একেক ধরনের খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে। তাহলে প্রাতরাশেও ভিন্নতা আসবে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদাও হ্রাস পাবে।