সারাবিশ্ব জুড়ে চলছে করোনার প্রকোপ। এরই মধ্যে করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে ব্রাজিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. নেলসন টেইক পদত্যাগ করেছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের ১ মাস না পার হতেই পদত্যাগ করলেন তিনি। করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলা নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর সঙ্গে মতবিরোধের জের ধরে পদত্যাগ করেছেন নেলসন টেইক। গেল ১৬ এপ্রিলে করোনাভাইরাস মোকাবেলা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে বরখাস্ত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইস হেনরিক মেনদেতা। এরপরই দায়িত্ব নিয়েছিলেন নেলসন টেইক।

সিএনএন জানিয়েছে, লকডাউন নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরেই নেলসন টেইক পদত্যাগ করেছেন। ঠিক একই কারণে গত মাসে পদত্যাগ করেন সে সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইজ হেনরিক মেন্ডেটা। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো লকডাউনকে সমর্থন করেন না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মহামারী সংক্রমণের চরম অবস্থায় জিম এবং বিউটি পার্লার খোলার অনুমতি দেন প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেলসন টেইক। তিনি প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।

সর্বশেষ জিম, বিউটি পার্লার ও সেলুন খুলে দেয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর সঙ্গে মতানৈক্য দেখা দেয় ও সম্পর্কে ফাটল ধরে টেইকের।

যে কারণে বরখাস্তের আগেই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

যদিও পদত্যাগের বিষয়ে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি নেলসন টেইক।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, জীবনটা নানা সিদ্ধান্তে পরিপূর্ণ। আমি আজ এই সিদ্ধান্ত নিলাম।

গত এপ্রিলে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইজ জনগণকে সামাজিক দূরত্ব অবলম্বন এবং বাড়ির ভেতরে থাকার জন্য অনুরোধ করায় প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেছিলেন বোলসোনারো। সেসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা ও পদক্ষেপে খুশি হননি তিনি।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তা নিয়ে দুজনে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এরপরই লুইজকে বরখাস্ত করেন বোলসোনারো।

এর আগে ব্রাজিলে করোনা রোগীদের জন্য ম্যালেরিয়ার ওষুধ ‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন’ বড় পরিসরে ব্যবহারে প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।

এবার তিনিও  হাইড্রোক্সোক্লোরোকুইন ব্যবহারের আপত্তি জানালে প্রেসিডেন্টের সাথে তার বিরোধ শুরু হয়। এ নিয়ে ব্রাজিলে পর পর দুই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হল।

শুরু থেকেই করোনাকে হালকা করে দেখছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৯৯১ জন এবং মারা গেছে ১৪ হাজার ৯৬২ জন।