গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার জন্য কানাডায় ঘাতক দল পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার সৌদি যুবরাজের

সৌদি আরবের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার জন্য কানাডায় ঘাতক দল পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সোমবার সৌদি যুবরাজের আইনজীবী তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজের আবদন করে জানায়, এমন কোনো প্রমাণ নেই যাতে প্রমাণিত হয় যে তিনি সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার জন্য কানাডায় ঘাতক দল পাঠিয়েছেন। মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য  জানানো হয়।

সৌদির নির্বাসিত সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম সাদ আল-জাবরি। হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ১০৬ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করে একটি মামলা করেছেন।

২০১৭ সালে সৌদি রাজপরিবারে ঘটে যাওয়া এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে হটিয়ে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও দেশটির ডি-ফ্যাক্টো নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

মামলায় জাবরি অভিযোগ করেছেন, তিনি তিন বছর আগে সৌদি আরব থেকে পালিয়ে কানাডায় যান। সেখানে তাঁকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

জাবরির ভাষ্য, ২০১৭ সালের অভ্যুত্থানে সাবেক ক্রাউন প্রিন্স নায়েফকে ক্ষমতাচ্যুত করা ছাড়াও আরও অনেক গোপন ও মারাত্মক তথ্য জানেন আর তাই তাকে হত্যা করতে চান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

মামলায় জাবরি দাবি করেন, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে আরেক নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার ১৩ দিনের মাথায় কানাডায় ঘাতক দল পাঠান সালমান। খাশোগি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন। তাঁর নির্দেশেই খাসোগিকে হত্যা করা হয় বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসে।

দীর্ঘসময় সৌদির গোয়েন্দা সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা ৬১ বছর বয়সী জাবরির দাবি, ২০১৭ সালে পালিয়ে কানাডায় গেলে তাকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে আনার জন্য বারবার চেষ্টা চালিয়েছেন যুবরাজ সালমান।

মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদির কার্যত শাসক হিসেবে গণ্য। তিনি বলেছেন, জাবরি নিজের অপরাধ গোপন করার চেষ্টা করছেন।

সৌদির যুবরাজ অবশ্য উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি বিচার থেকে দায়মুক্তি পান।