বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে এবার বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপ ‘বাটাগুর বাসকা’র ডিম থেকে ৩৪টি বাচ্চা ফুটেছে। বুধবার সকালে সুন্দরবনের করমজলের কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রে ডিম থেকে বাচ্চাগুলো ফুটতে শুরু করে। এ সময় একে একে ফুটে বের হয় ৩৪টি বাচ্চা। একটি ডিম নষ্ট হয়েছে।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, গত ১০ মার্চ এই প্রজনন কেন্দ্রের একটি কচ্ছপ ৩৫টি ডিম দেয়। এরপর ডিমগুলো সংগ্রহ করে রাখা হয় কেন্দ্রের বালুর তৈরি ‘ইনকিউভিশনে’ (নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আদ্রতা পূর্ণ জায়গা)। সেখানে দীর্ঘ ৬৫ দিন থাকার পর বুধবার সকালে ওই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হতে থাকে। এ বছর প্রথম দফায় ৩৫টি ডিম থেকে ৩৪টি হতে বাচ্চা ফুটেছে।

এছাড়া এ বছরের ২৭ মার্চ অপর আরেকটি কচ্ছপ ২১টি ডিম দিয়েছে, সেগুলো থেকে আগামী ২৮ মে’র মধ্যে বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর আগে ২০১৯ সালে সর্বপ্রথম  করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের একটি কচ্ছপের দেয়া ৩২টি ডিম হতে বাচ্চা হয় ৩২টি। ২০১৮ সালে দুইটি কচ্ছপ যথাক্রমে ২৬টি ও ২০টি ডিম দেয়, তা থেকে যথাক্রমে ৫টি ও ১৬টি বাচ্চা পাওয়া যায়। ২০১৭ সালে দুইটি কচ্ছপ যথাক্রমে ৩১ ও ৩২টি ডিম দেয়, তা থেকে যথাক্রমে ২৮টি ও ২৯টি বাচ্চা হয়।

বর্তমানে কচ্ছপ প্রজনন প্রকল্পে ছোট বড় মিলিয়ে ২শ ৫২টি কচ্ছপ রয়েছে। ২০১৪ সালে ৪টি প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও নারী কচ্ছপ দিয়েই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপ বাটা ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষায় প্রজনন কার্যক্রম চালু হয়। মূলত বিলুপ্ত প্রায় এ বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপের প্রজনন বৃদ্ধিসহ প্রাণীটির বিচরণক্ষেত্র, খাদ্যাভাস ছাড়া বেশ কয়েকটি বিষয়ে গবেষণার জন্যই বনবিভাগ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, টার্টেল সার্ভাইবাল এ্যালাইন্স ও ভিয়েনা জু এ প্রকল্প চালু করে।