দুই দিন বন্ধ থাকার পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে গণপরিবহন ছাড়া সব ধরনের গাড়ি পারাপার হচ্ছে। এর ফলে পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রী এবং ছোট গাড়ির চাপ বেড়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরমুখো হাজারো যাত্রীর ঢল নামে। এ সময় সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি যাত্রীদের।

জানা গেছে, গত ১৮ মে যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ফেরি চালু হতেই হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার শুরু হয়। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ না থাকলেও বিকেলে ঢল নামে যাত্রীদের।

ঘাটসংশ্লিষ্ট মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর ফেরি চালু হলে উভয় ঘাটে আটকে থাকা কয়েক শ গাড়ি ও কয়েক হাজার যাত্রী দ্রুত নদী পাড়ি দেয়। বিশেষ করে পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতে ঈদে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক ভিড় ছিল। এ সময় কোনো ফেরিতেই সামাজিক দূরত্ব বজায় বা স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোনো বালাই ছিল না।

ঘরমুখো যাত্রীরা জানান, সড়কে গণপরিবহন না থাকায় অনেক কষ্টে বাড়তি টাকা খরচ করে ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভেঙে ভেঙে পাটুরিয়াতে এসে গাদাগাদি করে ফেরি পার হয়ে দৌলতদিয়াতে এসেছেন। কিন্ত এখানেও যাত্রী পরিবহনের গাড়ি নেই। তাই বাড়ি যেতে বাধ্য হয়েই বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে অটোরিকশা, মাইক্রো, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলে করে যেতে হচ্ছে। সরকার আসার অনুমতি দিলো, কিন্তু গণপরিবহন চালু করলো না। ফেরিতে যে গাদাগাদি করে যাত্রীরা পার হচ্ছে বাসে কিন্তু অতটা গাদাগাদি হয় না। সীমিত আকারে হলেও গণপরিবহন চালুর অনুরোধ জানান তারা।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ফেরি চালুর নির্দেশনা এলে ১৪টি ফেরি চালু করা হয়। উভয় ঘাটে আটকে থাকা সব গাড়ি আজ সকাল ১০টার মধ্যে পারাপার শেষ হলে ফেরি কমিয়ে আনা হয়। গাড়ির চাপ বাড়লে পুনরায় ফেরি বাড়ানো হবে। গণপরিবহন ছাড়া সব ধরনের গাড়ি পারাপার হচ্ছে।