দৈনিক কতটা চুল ঝরা স্বাভাবিক?

131

চুল ঝরে যাওয়া আসলে একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। চুল ঝরে যাবে এবং আবার নতুন চুল গজাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেরই মনে হতে পারে চুল খুব বেশি ঝরে যাচ্ছে। চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়ে যাওয়ার ভয় কাজ করে তাদের মধ্যে। আসলে দৈনিক কি পরিমাণে চুল ঝরাটা স্বাভাবিক আর কতটা চুল ঝরলে আমাদের চিন্তিত হবার কারণ রয়েছে, এ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্পষ্ট কোন ধারনা নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে যাওয়াটা স্বাভাবিক। চুল এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেস্কো ফুস্কোর মতে, চুল ঝরে যাওয়াটা অনেকটা আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। হেমন্তকালে চুল বেশি ঝরে আর গ্রীষ্মে ঝরে যাওয়ার পরিমাণ কমে যেতে পারে।

এছাড়াও ট্রাইকোলজিস্ট অ্যানাবেল কিংসলে জানান, যাদের চুল বেশি লম্বা হয়, তাদের চুল ঝরার পরিমাণ অন্যান্যদের চেয়ে বেশি হতে পারে। এতে বেশি চিন্তিত হবার কিছু নেই। শরীরের যথাযথ যত্ন নিলে চুল আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

আবহাওয়ার তারতম্য ছাড়াও আরও কিছু কারণে আমাদের চুল ঝরার পরিমাণ একটু বেড়ে যেতে পারে। সেই কারণগুলো হল-

১। হঠাৎ করে খাদ্যভ্যাসে পরিবর্তন বা ডায়েট করা।

২। বার্থ কন্ট্রোল পিল খাওয়া শুরু করা বা বন্ধ করা।

৩। গর্ভধারণ।

৪। জ্বর বা পেট খারাপের মতো ছোটখাটো অসুস্থতা।

৫। পানিতে আয়রনের মাত্রার আধিক্য।

৬। চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত ঘাম হলে।

৭। মাথায় মাত্রাতিরিক্ত খুশকি থাকলে।

এই কারণগুলোর জন্য ১০ দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত চুল ঝরা অব্যহত থাকতে পারে। এছাড়াও শীতকালে অনেকে দুই-একদিন পর পর চুল ধুয়ে থাকেন। এ সময়ে মনে হতে পারে চুল বেশি পড়ছে। আসলে এই কয়দিনে চুল জমে যায় দেখেই মনে হয় বেশি চুল পড়ছে।

তবে যদি দেখেন, মাথার কোনও জায়গায় হাতের বুড়ো আঙুলের মাপের অংশে চুল উঠে গেছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কোনও ডার্মাটোলজিস্ট দেখানো জরুরী। এটা হতে পারে অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটা নামের একটি চর্মরোগের লক্ষণ।

এছাড়াও যদি মাথার ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি হয়, ত্বক লালচে হয়ে যায় অথবা চামড়া উঠে যেতে থাকে তাহলেও ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, এসব স্ক্যাল্পে (মাথার ত্বকে) সমস্যা বা অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে। এই সমস্যা বেশিদিন থাকলে চুল পড়ে গিয়ে অকালে টাক পড়ে যেতে পারে।

যদি দেখেন এক মাসের বেশি সময় ধরে অস্বাভাবিক চুল পড়ছে, তাহলেও ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। অনেকের ক্ষেত্রে মাথার সামনের দিকে টাক পড়ার পারিবারিক ইতিহাস থাকতে পারে। বংশগত কারণেও অনেকের চুল একটু বেশি পড়তে পারে।ৃ