দেহের আকার গড়ে জীবনযাপনের ধরনে

17

জীপনযাপনের ধরনে দেহে বিভিন্ন অংশে চর্বি জমার কারণ ও প্রতিকার।

কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন- সে হিসেবে শরীরের আকার গঠিত হয়। তবে সবার একই ভাবে বাড়ে না। কারও পেটে, কারও নিতম্বে বা শরীরের অন্যান্য অংশে চর্বি জমে বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, আসল বিষয় হচ্ছে- শরীর ভারী হওয়ার জন্য খাদ্যাভ্যাস দায়ী হলেও জীবনযাপনের ধরনে দেহের আকার একেক জনের একেক রকম।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী মানব দেহের চার রকম গড়নের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়।

উচ্চ চাপ ধর্মী

অতিরিক্ত কাজের চাপ মানসিক অশান্তির কারণ। আর এটা শরীরের জন্যেও ভালো নয়। চাপ মানেই শরীরে কর্টিসোলের মাত্রা বেশি। আর অতিরিক্ত কর্টিসোল অন্ত্রে চর্বি জমায়। ফলে পেটের চারপাশে মেদ জমতে দেখা যায়।

এই ধরনের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে মন শান্ত থাকে এমন কাজ করা উচিত, যেমন- ধ্যান। এর মাধ্যমে শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ বৃদ্ধি পায়।

উচ্চ শর্করা ধর্মী

চিনি পছন্দ করা দোষের কিছু নয়। তবে এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যত চিনি খাওয়া হয় শরীর তত বেশি ইন্সুলিন তৈরি করে। ফলে কোমরের চারপাশে মেদ জমতে দেখা যায়।

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে, চিনি নেই এমন মসলা যেমন- রসুন, অরিগানো ও দারুচিনি দেওয়া খাবার খেতে পারেন। শরীরচর্চার জন্য ‘প্লাংক’ ও ‘ক্রাঞ্চ’ বেছে নিতে পারেন।

উচ্চ এস্ট্রোজেন ধর্মী

নিতম্বের দিকে যদি মেদ বেশি থাকে এবং ‘পিএমএস’য়ের সমস্যায় ভোগেন তাহলে বুঝে নিতে হবে শরীরে এস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি।

উচ্চ ফাইটোকেমিকেল সমৃদ্ধ সবজি যেমন- ব্রকলি খান, ভালো ফলাফল পাবেন। শরীরচর্চা হিসেবে পায়ের দিকে মুখ রেখে ‘স্কোয়াট’ করতে পারেন।

স্বল্প টেস্টোস্টেরন ধর্মী

হাতের উপরের অংশে যদি অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় বেশি মেদ জমতে দেখেন তাহলে বুঝতে হবে দেহে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম। উচ্চ মাত্রার হরমোনের জন্য শরীরের অন্যান্য অংশে মেদ জমলেও হাতে মেদ বাড়ার কারণ হল হরমোন হ্রাস।

সমাধানে, খাবার তালিকায় ভিটামিন ডি যেমন- মাশরুম যুক্ত করুন। যারা সবজিভোজী তারা ভিটামিন ডি’র সম্পূরক খাবার খেতে পারেন। শরীরচর্চার জন্য শক্তির প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।