অস্কার পাওয়ার পর একটুও বদলাননি বাবা: রহমান কন্যা

7

স্লামডগ মিলিওনেয়ার এক লহমায় বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা তুলে দিয়েছিল সংগীত সম্রাট এ আর রহমানের হাতে। বেস্ট অরিজিনাল স্কোর এর জন্যে পেয়েছিলেন অস্কারের স্বীকৃতি। তারপর পেরিয়ে গেছে ১০ বছর।

তবে সেই সাফল্য একবিন্দু পাল্টাতে পারেনি রহমানকে। এমনই দাবি করলেন শিল্পীর মেয়ে খাতিজা রহমান। স্লামডগ মিলিওনেয়ারের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন খাতিজা।

বাবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদিও সারা বিশ্ব তোমাকে সংগীত এবং অসংখ্য পুরস্কারের জন্যে চেনে, তবে আমার কাছে তোমার নম্রতা সবচেয়ে বেশি দামি। তোমার জন্যে আমার অনেক ভালোবাসা আর সম্মান। অস্কার পাওয়ার পরেও তোমার মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনও পরিবর্তন আসেনি। একটাই মাত্র পরিবর্তন এই ১০ বছরে নজরে এসেছে… তোমার হাতে এখন সময় খুব কম থাকে… তাই আমাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারো না। তবে মাঝ্যে মধ্যেই আজকাল আমাদের ছোট ছোট ট্রিপে নিয়ে যাচ্ছো। তোমার ঔদার্য আমাকে মুগ্ধ করে। এমন অনেক সমাজসেবামূলক কাজ তুমি প্রতিদিন করে থাকো, যার খবর দুনিয়া তো দূর, আমরাও জানতে পারি না।

অনুষ্ঠানে খাতিজা রহমানকে অনুরোধ করেন তাঁদের এবং যুব প্রজন্মের উদ্দেশে কিছু বলার জন্যে। মেয়ের এই আবদারে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

খানিক থেমে বলেন, ‘আমি সাধারণত কাউকে খুব একটা জ্ঞান দিই না। তোমরা তিন জন যখন বড় হচ্ছিলে, তখন একটা কাজই আমি করতে চেয়েছি… আমার মা আমাকে যে শিক্ষায় বড় করেছেন, তাই তোমাদের দিতে চেয়েছি। সময় এসেছে তোমরা তোমাদের মনের কথা শুনে এগিয়ে যাও। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব তিনি যেন সব সময়ে তোমাদের সহায় হন। আমার মনে হয়ে তোমাদের বিবেকই আগামীদিনে শ্রেষ্ঠ গাইড হবে।’

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুলজার, সুখবিন্দর সিং, ইলা অরুণ, মহালক্ষ্মী আইয়ার, বিজয় প্রকাশ এবং অবশ্যই অনিল কাপুর। তবে কোনও ঝাঁচকচকে হোটেলের বলরুম নয়, অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল ধারাভির বস্তি অঞ্চলে। ধারাভি মিউজিক প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত শিশুরাই গাইল ছবির গান।