পৃথিবীর কাছেই অফুরন্ত পানি আর খনিজ পদার্থের ভাণ্ডার!

11

পৃথিবীর বাইরে প্রাণের খোঁজে মরিয়া মানুষ। এলিয়েনের ঠিকানা পেতে মহাশূন্যে উঁকি মারছে মহাকাশকেন্দ্র প্রতিনিয়ত।

তবে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও প্রাণের সন্ধানের পাশাপাশি পানিরও সন্ধানে ব্যস্ত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

সৌরমণ্ডলে জীবন বাঁচার অন্যতম উপকরণ পানির খোঁজে ‘বেন্নু’ নামের গ্রহাণুতে ইতিমধ্যে ‘ওসিরিস-রেক্স’ মহাকাশযান পাঠিয়েছে নাসা।

সেখান থেকে খনিজ পদার্থের নমুনা পেলেই গ্রহাণুতের পানির পরিমাণ বিষয়ে গবেষণা করবে নাসা।

তবে এরই মধ্যে মহাশূন্যে পানির খোঁজের খবর দিলেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর কাছেই রয়েছে পানি আর খনিজ পদার্থের অফুরন্ত ভাণ্ডার।

একটি বা দুটি নয় আপাতত ৮০টি গ্রহাণুতে পাওয়া গেছে পানির অস্তিত্ব।

ওসব গ্রহাণু থেকে পানিতে আনতে চাঁদের চেয়েও সহজ ও কম সময় লাগবে বলে জানান তারা।

সম্প্রতি আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ’-এর ৬ ডিসেম্বর সংখ্যায় এসব কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থিত ওসব গ্রহাণু থেকে আনা পানি দিয়ে অলিম্পিকের প্রায় পাঁচ লাখ সুইমিংপুল ভরিয়ে দেয়া যাবে।

এ বিষয়ে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু রিভকিন লিখেছেন- ওসব গ্রহাণুর খনিজ পদার্থগুলোতে রয়েছে পানির উৎস।

সেই খনিজ পদার্থ থেকে ৪০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি লিটার পানি বের করে আনা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক অ্যান্ড্রু রিভকিন।

রিভকিন তার গবেষণাপত্রে আরও লিখেছেন- ওই গ্রহাণুগুলোতে অক্সাইড যৌগ হিসেবে প্রচুর পরিমাণে লোহাও রয়েছে।

পানি ও খনিজে পূর্ণ এসব গ্রহাণু কোথায়?

জবাবে ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ’ জানিয়েছে, এসব গ্রহাণুর মূল ঠিকানা মঙ্গল আর বৃহস্পতির মধ্যে থাকা গ্রহাণুমণ্ডলে।

প্রায় ৫০০ কোটি বছরও আগে সৌরমণ্ডলের জন্মের পর এই অঞ্চলে এসব গ্রহাণুর সৃষ্টি হয়েছে বলে গবেষণায় প্রকাশ।

বিজ্ঞানীদের বড় একটি অংশের বিশ্বাস- পৃথিবীতে পানি এসেছে এসব গ্রহাণু থেকেই।

সৃষ্টির এসব গ্রহাণুর সঙ্গে একের পর এক সংঘর্ষের পর পানিতে ভরে গিয়েছিল পৃথিবী।তবে বিষয়টি এখনও প্রমাণিত নয়।

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ১৯ হাজারেরও বেশি গ্রহাণু আবিষ্কৃত হয়েছে।