শুধু চা পান করেই ৩৩ বছর বেঁচে আছেন এই নারী

14

ক্লান্ত শরীর হোক বা কনকনে ঠান্ডা, এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা সামনে দেখলেই চনমন করে ওঠে শরীর। কিন্তু ভাবুন তো আপনার প্রতিদিনের খাদ্য শুধুই চা।

শুনতে অবাক লাগলেও, ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলার বরডিয়া গ্রামের বাসিন্দা, ৪৪ বছরের পিল্লি দেবী কোনও ধরনের ভারী খাবার খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন যখন তাঁর বয়স ১১ বছর ছিল।

তারপর থেকে গত ৩৩ বছর ধরে শুধু এক কাপ চা–ই তাঁর প্রতিদিনের খাবার। এজন্য পাড়ায় তাঁর নাম ‘‌চায়েওয়ালি চাচি’‌।

ইপিল্লি দেবীর বাবা রতিরাম জানালেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তে একবার জনকপুরে জেলা স্তরের স্কুল প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন তাঁর মেয়ে।

বাড়ি ফেরার পরই সব রকম ভারী খাদ্যগ্রহণ, এমনকি জল পান করাও বন্ধ করে শুধু চা পান শুরু করেন। তাঁরা স্বামী, স্ত্রী, এবং তাঁদের ছেলেরা অনেক চেষ্টা করেও মেয়েকে জল বা ভারী খাবার মুখে ঢোকাতে পারেননি।

তবে প্রথমে দুধ–চায়ের সঙ্গে বিস্কুট এবং পাঁউরুটি খেতেন। ক্রমশ, সেসব বন্ধ হয়ে শুধু লাল চা পান শুরু করেন পিল্লি দেবী, তাও দিনে একবার সূর্যাস্তের পর।

পিল্লি দেবীর ভাই বিহারীলাল রাজভড়ে বললেন, তাঁরা বোনকে নিয়ে অনেক হাসপাতাল, চিকিৎসক এমনকি মনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছেও ঘুরেছেন। কিন্তু কেউ পিল্লির এ ধরনের আচরণের কোনও ঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

তাঁকে খাবারও খাওয়াতে পারেননি। দিনভর বাড়ির ভিতরেই থাকেন পিল্লি এবং শিবকে স্বামী মেনে তাঁর উপাসনা করেন।

কোরিয়া জেলা হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, এ ধরনের আচরণ সত্যিই অস্বাভাবিক। কারণ, অনেকেই নবরাত্রি বা ওই ধরনের পুজোর সময় টানা উপবাস করেন শুধু চা পান করে, কিন্তু তারপর স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করেন। পিল্লি দেবী কেন কিছু খান না তার কারণ বলতে পারলেন না এ চিকিৎসক।