শাশুড়ির ঘরে চুরি, জামাই জেলে

12

নকুল ও সুশীলের সঙ্গে বিবাদ ছিল তাদের পুকুরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে যাওয়া নিয়ে। বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরের মাথায় আততায়ীরা আঘাত করেছে মর্মে থানায় মিথ্যা অভিযোগ আনেন জাহাঙ্গীর। এই মিথ্যা অভিযোগ ধোপে টেকেনি।

এখানেই থেমে যাননি জাহাঙ্গীর। নকুল ও সুশীলকে হয়রানি করতে জন্ম দিলেন আরেক নাটকের। সব নাটকীয়তা শেষে নিজেই গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের হাতে। জাহাঙ্গীর এখন জেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের বেলোয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর প্রথমে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেয়। তাতে সুবিধা করতে না পেরে পরে গ্রামের কয়েকজনের উস্কানিতে শাশুড়ির বাড়িতে চুরির ঘটনার নাটক সাজায়।

জাহাঙ্গীর শাশুড়ির বাড়িতেই থাকেন। গত বুধবার রাতে শাশুড়ি লাইলি বেগম তার নাতনী জান্নাতীকে নিয়ে তার একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাপড় দিয়ে মুখ বাঁধা দুইজন লোক লাইলি বেগমের ঘরে প্রবেশ করে।

তারা লাইলি বেগমের নাতনী জান্নাতীর গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ওই দুইজন লাইলি বেগমকে কিল-ঘুষি মেরে কানের লতি ছিঁড়ে চারআনার একটি সোনার রিং ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। জামাই জাহাঙ্গীরের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে নকুল ও সুশীলকে ফাঁসানোর চেষ্টায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানায় এবং ঘটনার বর্ণনা দেয়।

জাহাঙ্গীরের শাশুড়ি লাইলি বেগম সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।