বিশ্বের সবচেয়ে কিউট কুকুরের মৃত্যু

11

ফেসবুক সেলেব্রিটি ও বিশ্বের সবচেয়ে ‘কিউট’ কুকুর ‘বো’ মারা গেছে। কুকুরটির মালিক মার্কিন দম্পতি শনিবার বোয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এই তথ্য দেন। ১২ বছর বয়সে মারা গেল বো।

বোয়ের মৃত্যুর খবর শুনে তার ভক্তরা শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার কেঁদেছেন। ভক্তরা বলছেন, তাদের সবচেয়ে পছন্দের ও ভালোবাসার কুকুরকে হারালেন। বো যেখানেই থাকুক শান্তিতে থাকুক এই প্রার্থনা করছেন তারা।

বিশ্বে সবচেয়ে কিউট কুকুর হিসেবে পরিচিত বো। অনলাইন, ক্যালেন্ডার, বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পোস্টারে সাধারণত যে কিউট কুকুরকে দেখা যায় সেটাই হচ্ছে বো। তার নামে ফেসবুকে একটি ভেরিফাইড পেজ আছে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানে তার অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩শত ৩০ জন। বোয়ের ফেসবুকে পেজে প্রকাশ করা তার সুন্দর সুন্দর ছবি কোটি কোটি মানুষের মন কেড়েছে।

বোয়ের মালিক দম্পতি লেখেছেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমাদের জানাতে হচ্ছে যে বো আর নেই। শনিবার সকালে ঘুমের মধ্যেই মারা যায় সে। আমরা তার মৃত্যুতে কষ্ট পেয়েছি। বো বিশ্ব জুড়ে মানুষের জন্য আনন্দের ছিল।’

বোয়ের সবচেয়ে পছন্দের একটি বন্ধু ছিল। তার নাম বাড্ডি। এই কুকুরটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে মারা যায়। তাদের দুজনের মাঝে চমৎকার সম্পর্ক ছিল। দুই বন্ধুর সব সুন্দর সুন্দর ছবি ইন্টারনেটে ঝড় তোলে। কিন্তু বাড্ডি মারা যাওয়ার পর বো বেশ কষ্ট পায়। তার হার্টের সমস্যা দেখা দেয়।

বন্ধুর সাথে বো

কুকুরটির মালিক বলেন, ‘বাড্ডির মৃত্যুতে বোয়ের হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছিল আমাদের। বন্ধু মারা যাওয়ার পর সে মাত্র এক বছর সময় দিল আমাদের।

এরপর নিজের পথে যাত্রা করল। স্বর্গে যখন তারা পরস্পরের দেখা পাবে, সেটিই হবে তাদের আনন্দের মুহূর্ত। বোয়ের মৃত্যুতে আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। তবে সান্ত্বনা এই যে, সে কষ্ট আর অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে।’

কুকুরটির মালিক আরো জানায়, ২০০৬ সালে বো তাদের বাড়িতে আসে। তখন থেকেই বোয়ের সঙ্গে তাদের সবচেয়ে আন্তরিক বন্ধুত্ব হয়।

বোকে ২০১২ সালের জুলাইয়ে ভার্জিন আমেরিকার অফিশিয়াল পেট লিয়াজোঁ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০১১ সালে তাকে নিয়ে ‘বো: দ্য লাইফ অব দ্য ওয়াল্ডর্স কিউটেস্ট ডগ’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়।

এই বইটি ১০টি ভাষায় প্রকাশিত হয়। এরপর আরেকটি বই প্রকাশ হয়। যার নাম ‘বো: লিটল ডগ ইন দ্যা বিগ সিটি’। ২০১২ সালে সিএনএনকে সে একটি ‘সাক্ষাৎকার’ দেয়।