বিশ্বের অর্ধেক গরীব লোকের সমপরিমাণ সম্পদ ২৬ ধনীর হাতে

8

সারাবিশ্বে সব গরীব লোকের অর্ধেকের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে মাত্র ২৬ জন ধনীর হতে রয়েছে সে পরিমাণ সম্পদ। এমন খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা অক্সফাম।

২১ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে শুরু হতে যাওয়া ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ এর বৈঠকের প্রাক্কালে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলো সংস্থাটি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, অক্সফামের হিসাবে ২০১৮ সালে বিশ্বের সব ধনীদের সম্পদের পরিমাণ একত্রে প্রতিদিন আড়াই বিলিয়ন ডলার করে বেড়েছে। অর্থাৎ, ১২ শতাংশ হারে।

সেই হিসাব অনুযায়ী গত বছর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ধনী আমাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোসের আয় বেড়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলার। তার মোট আয়ের ১ শতাংশ অর্থ ১০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য খাতের মোট বাজেটের সমান।

অপর দিকে, দারিদ্রের নিচের দিকে থাকা প্রায় ৩০০ কোটি ৮০ লাখ লোকের গত বছর আয় কমেছে ১১ শতাংশ।

অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক উইনি বাইয়েনিমা বলেন, “এর ফলে দুনিয়া জুড়ে সব মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।”

ভারতে চলতি বছরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে যেনো বোমা পড়লো ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের মাথায়। পাঁচ বছর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এসেছিলেন সবার জন্যে সুন্দর দিনের আশার বাণী শুনিয়ে।

আর এখন অক্সফাম জানিয়েছে- ভারতে ১ শতাংশ ধনীর আয় বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। অপরদিকে, ৫০ শতাংশ গরীবের আয় বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ।

সংস্থাটির হিসাবে, ভারতে জনসংখ্যার উপরের সারির ১০ শতাংশের হাতে রয়েছে দেশটির মোট জাতীয় সম্পদের ৭৭.৪ শতাংশ।

ভারতের গরীবদের ৬০ শতাংশের হাতে রয়েছে জাতীয় সম্পদের মাত্র ৪.৮ শতাংশ। বিশ্বের অন্যমত জনবহুল এই দেশটির নয়জন শীর্ষ ধনীর সম্পদের পরিমাণ সেখানকার ৫০ শতাংশ গরীব জনগণের সমান।

অক্সফামের হিসাবে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মোট সম্পদের পরিমাণ ২.৮০ লাখ কোটি রুপি। অথচ সারাদেশের (কেন্দ্র, রাজ্য মিলিয়ে) চিকিৎসা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা খাতের মোট ব্যয় বরাদ্দ হয় দুই লাখ কোটির একটু ওপরে।

আর এমন পরিস্থিতিতে ধনীদের ওপর আরও কর বাড়ানো জন্যে সবদেশের সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছে অক্সফাম।

বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পদের বৈষম্যও উঠে এসেছে অক্সফামের প্রতিবেদনটিতে। এতে বলা হয়েছে, এখানে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ভূমি মালিকানা ছয়গুণ বেশি।

এছাড়াও, বাংলাদেশে মোট সম্পদের ওপর নারীদের রয়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মালিকানা। প্রতিবেদনটির মতে, কম সম্পদের ওপর নারীদের অধিকারের মানে দাঁড়ায় পরিবারে বিপদের সময় তাদের সহযোগিতা করার সুযোগ কম থাকে।

এমন পরিস্থিতি ভারত ও পাকিস্তান এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও বিদ্যমান বলে অক্সফামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।