বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পর্তুগালে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

126

দেশের বাহিরে উচ্চশিক্ষা নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। যদিও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর আকাঙ্খা থাকে বৃত্তি নিয়ে পড়ার। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না। তারপরেও শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার।

এক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শিক্ষার মান, বাৎসরিক টিউশন ফি, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় আয় এবং পড়াশোনা শেষ করে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ ইত্যাদি।

আর এসব কিছু বিবেচনায় পর্তুগাল হতে পারে অন্যতম সেরা দেশ। বর্তমানে পর্তুগালের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যাক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

কথা হলো এমন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে এবং উঠে এসেছে পর্তুগালে শিক্ষা সম্পর্কিত নানান বিষয়। পিএইচডি অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মো. নুর আলম মিস্ত্রী, তিনি বর্তমানে পিএইচডি করছেন Urban planning এ University of Lusofona. পাশাপাশি সময় দিচ্ছেন খন্ডকালীণ শিক্ষক হিসাবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে Department of Architecture and Urbanism এ।

অন্য জন হলেন মো. শাকাউতুল ইসলাম আজিজ, তিনি মাস্টার্স করছেন Data Science and Advanced Analytics এ (Nova IMS), university of New Lisbon. এ দুই শিক্ষার্থী উত্তর দিয়েছেন পর্তুগালে শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের ও বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনার কথা।

পড়াশোনার জন্যে পর্তুগালকে বেছে নেয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, পর্তুগিজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

আর বিশ্বমানের শিক্ষা দিয়ে থাকে যা পৃথিবীর সকল দেশে গ্রহণযোগ্য। তাছাড়াও পর্তুগালে পড়াশুনা শেষ করে সহজে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নেওয়া যায়।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্তুগালে পড়াশোনা করার সম্ভাবনা নিয়ে তারা বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য অপার সম্ভাবনা আছে।

এখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি পর্যায়ে অনেক বিষয় ইংরেজীতে পাঠ দান করে এবং অনার্স পর্যায়ে সল্প পরিসরে ইংরেজি ও বেশির ভাগ পর্তুগিজ ভাষায় পড়ানো হয়। কিন্তু অনেকে এখনো বিষয়টি অবগত নয় তাই এখানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অনেক কম।

কি কি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়?

এখানে অনার্স, মাস্টার্স, পোষ্ট গ্রেজুয়েশন ও পি এইচডি করার সুযোগ আছে এবং প্রায় সকল বিষয়ে পড়াশোনা করা যায়।

পর্তুগালে পড়াশোনা করতে জেনে নিন

এখানে মূলত একটিই সেশন তা হলো সেপ্টেম্বর এবং আবেদন প্রকৃয়া জানুয়ারি থেকে এপ্রিল/মে পর্যন্ত। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেব্রুয়ারিতে স্বল্পসংখ্যক বিষয়ে ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করতে পারে।

টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ

বার্ষিক ২৫০০ ইউরো থেকে শুরু করে ১৫০০০ হাজার পর্যন্ত টিউশন ফি আছে এবং থাকা খাওয়া ও যাতায়াতে একজনের ৪০০-৫০০ ইউরো হলে চলে যায়।

এখানে মাস্টার্স ও উপরের লেভেলে বেশিরভাগ Medium of Instructions হলো ইংরেজি এবং অনার্স পর্যায়ে বেশিরভাগ পর্তুগিজ।

IELTS হলে ভাল হয় অথবা Medium of Instruction Certificate দিয়েও আবেদন করা যায়। কিন্তু IELTS হলে ভাল হয় কারন এম্বাসীর মুখোমুখি হতে সুবিধা হয়।

বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ সুবিধা

পর্তুগালে রয়েছে বিভিন্ন স্কলারশিপ যা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে। যেমনঃ Erasmus mundus Scholarship, FCT Scholarship & University Internal Scholarship এর জন্য আবেদন করতে পারে।

তবে মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভাষা এবং বাংলাদেশে পর্তুগালের কোন এমব্যাসি নেই। ইন্ডিয়া যেতে হয় বলে আমাদের শিক্ষার্থীদের ভিসা রেশিও অনেক কম।

পার্ট টাইম কাজের সুযোগ এখানে মূলত সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজের অনুমতি আছে কিন্তু আপনি যদি ইমিগ্রেশনকে প্রমাণ করতে পারেন আপনার কাজ ও পড়ালেখার সময় একে অপরের সাথে সাংঘার্ষিক নয় তবে ফুল টাইম কাজ করতে পারেন।

পড়াশোনা শেষে স্থায়ী নাগরিকত্বের সুযোগ

পড়াশোনা শেষ করলে পর্তুগালে চাকরির বাজার সীমিত হলেও ইউরোপ সহ সারা বিশ্ব উন্মুক্ত চাকরির জন্যে। তাছাড়াও পর্তুগালে বর্তমানে ৫ বছর অবস্থান করলে স্থায়ী নাগরিক বা পর্তুগিজ পাসপোর্ট পাওয়া যায়।