নানা আয়োজনে নিউ ইয়র্কে বিজয় দিবস উদ্‌যাপন

118

নানা আয়োজনে নিউ ইয়র্কে ৪৭তম বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করা হয়েছে। রবিবার সকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রমের সূচনা হয়। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সন্ধ্যার অনুষ্ঠান শুরু হয় মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে। মিশন ও কনস্যুলেট অফিসের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতা এবং সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

উন্মুক্ত আলোচনাপর্বে উঠে আসে বাঙালির বিজয় অর্জনের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন স্মৃতি, দেশের উন্নয়ন এবং রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের নানা দিক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দিনটি উপলক্ষে দেওয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। রাষ্ট্রদূত মাসুদ তার বক্তব্যে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ, জাতীয় উন্নয়নে বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা তার বক্তব্যে বিজয়ের এই দিনে দেশের উন্নয়নে প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন এবং যুদ্ধাহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ডা. মাসুদুল হাসান।

অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাপর্ব শেষে স্থানীয় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আটর্স (বিপা)’ দেশাত্ববোধক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করে।

এরপর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।