নিভে যাওয়ার পর জ্বলে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা

সব হারিয়ে বড় অসময়ে জ্বলে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের লিগ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর স্বরূপে ফিরল প্রোটিয়ারা। শুক্রবার চেস্টার-লি-স্ট্রিটে ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে শ্রীলংকাকে নয় উইকেটে হারিয়ে আট ম্যাচে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলংকাকে তিন বল বাকি থাকতেই ২০৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন প্রোটিয়া পেসাররা। এরপর হাশিম আমলা ও অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসির হার না-মানা ফিফটিতে ৭৬ বল বাকি থাকতেই নয় উইকেটের অনায়াস জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

আমলা ১০৫ বলে ৮০ ও ডু প্লেসি ১০৩ বলে ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন। লক্ষ্য একটু বড় হলে দু’জনই হয়তো সেঞ্চুরির দেখা পেতেন। তবে সেঞ্চুরি না পেলেও দ্বিতীয় উইকেটে তাদের ১৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি শ্রীলংকাকে ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি।

পঞ্চম ওভারে লাসিথ মালিঙ্গার বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছিলেন কুইন্টন ডি কক। বোলিংয়ে সেটাই হয়ে থাকল শ্রীলংকার একমাত্র সাফল্য।

দক্ষিণ আফ্রিকার সান্ত্বনার জয়ে লাভ হল বাংলাদেশের। কারণ মাশরাফিরা এখন শেষ দুই ম্যাচ জিতলে তাদের আর ধরতে পারবে না লংকানরা। সাত ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাতেই পড়ে থাকল শ্রীলংকা।

সেমিফাইনালের গাণিতিক সম্ভাবনা অবশ্য এখনও শেষ হয়ে যায়নি তাদের। ক্ষীণ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে বাকি দুই ম্যাচেই জিততে হবে শ্রীলংকাকে।

সাত ম্যাচ থেকে ছয় পয়েন্ট পেলেও গোটা আসরে এখন পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেনি শ্রীলংকা। কালও প্রোটিয়া পেসে মুখ থুবড়ে পড়ে লংকান ব্যাটিং। বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে নামা ডুয়ানে প্রিটোরিয়াস একাই ধসিয়ে দেন শ্রীলংকার টপঅর্ডার।

১০ ওভারে মাত্র ২৫ রানে তিন উইকেট নিয়ে তিনিই দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে সফল বোলার। এছাড়া ক্রিস মরিস ৪৬ রানে নেন তিন উইকেট। আরেক পেসার কাগিসো রাবাদার ঝুলিতে গেছে দুই উইকেট।

ইনিংসের প্রথম বলেই লংকান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেকে ফিরিয়ে দেন রাবাদা। ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটিটা হয়েছে এরপর। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ রান যোগ করেন কুশাল পেরেরা ও আভিশকা ফার্নান্দো। দশম ওভারে ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন প্রিটোরিয়াস।

এরপর বলার মতো আর কোনো জুটি দাঁড় করাতে পারেনি লংকানরা। ভালো শুরু পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার নিয়ন্ত্রি বোলিংয়ের সামনে ইনিংস বড় করতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যানই। সর্বোচ্চ ৩০ রান করেছেন কুশাল পেরেরা ও ফার্নান্দো।

এছাড়া বিশের ঘরে থেমেছেন কুশাল মেন্ডিস (২৩), ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (২৪) ও থিসারা পেরেরা (২১)। শেষ ব্যাটসম্যান লাসিথ মালিঙ্গাকে ফিরিয়ে তিন বল বাকি থাকতেই শ্রীলংকাকে গুটিয়ে দেন ক্রিস মরিস।

শ্রীলংকা ২০৩/১০, ৪৯.৩

দ. আফ্রিকা ২০৬/১, ৩৭.২

ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী

0

Related posts

Leave a Comment