রাঙ্গাবালীতে তরমুজে শত কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

8

কয়েক দফার বৃষ্টিপাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মৌসুমি ফল তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে তরমুজচাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তরমুজচাষিদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি তরমুজ মৌসুমে এ উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর।

কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে তরমুজ আবাদ হলেও অকাল বৃষ্টিপাতে ক্ষেতে পানি জমে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির তরমুজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে ধারণ করা হচ্ছে। তবে ক্ষেত থেকে পানি সরে গেলে সঠিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় সম্ভব হবে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কয়েক দফা বৃষ্টিপাত ও ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তরমুজ ক্ষেতে পানি জমে রয়েছে।

তাই বেশিরভাগ তরমুজ চারা ও ফলন পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার পানি নিষ্কাশনের পর রোদ উঠলেও তরমুজের ক্ষতি হবে। ফলে চাষিদের প্রায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তরমুজ ক্ষেতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় তরমুজচাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কেউ মাটি কেটে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন, কেউ আবার পাওয়ার পাম্প বসিয়ে ক্ষেতের পানি সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের তরমুজচাষি কামরুল ইসলাম হিরু বলেন, আমি ১২ কানি জমিতে তরমুজ দিছি। আমার ২৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকা মাস সুদে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে এনেছি। কীভাবে টাকা পরিশোধ করব সেই চিন্তা করছি।

উপজেলার গঙ্গিপাড়া গ্রামের তরমুজচাষি সুমন প্যাদা বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তরমুজচাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। মহাজনের দাদন ও ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবে সবাই সে চিন্তাই করছেন।

রাঙ্গাবালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন খান বলেন, রাঙ্গাবালীর প্রধান অর্থকরী ফলন তরমুজ। কিন্তু বৃষ্টিতে তরমুজচাষিরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। এ মুহূর্তে চাষিদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল মান্নান বলেন, বৃষ্টিপাতে ৬০ শতাংশ তরমুজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। এতে কৃষকের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পানি নেমে গেলে সঠিকভাবে বলা যাবে।

আমরা এখনও কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারব না। দুই-চার দিন পরে আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেব। তখন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে, ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো ধরনের সহায়তা দেয়া হবে কিনা।