চট্টগ্রামের খুলশীতে মা-মেয়ে খুন

97

চট্টগ্রামে নিজ বাড়িতে মনোয়ারা বেগম (৯৭) ও তার মেয়ে রূপালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক মেহেরুন নেছা বেগমকে (৬৭) হত্যার ঘটনায় আত্মীয় ও দোকান কর্মচারীসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসবাদ করেছে পুলিশ।

এদিকে রোববার রাতে নিহত মনোয়ারা বেগমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মা-মেয়ের হত্যার বিষয়ে মেহেরুন নেসার বোনের ছেলে মুশফিকুর রহমান, বেলাল উদ্দিন ও দোকান কর্মচারী ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাদের আটক বা গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

খুলশী থানার আমবাগান এলাকার ফ্লোরা পাস রোড এলাকার নির্জন বাড়িতে মা-মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতের যে কোনো সময় তাদের একজনকে শ্বাসরোধ করে আরেক জনকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে লাশ পানির ট্যাংকে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রোববার বিকালে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, বাড়িটির লোভে অথবা ডাকাতি করতে আসা দুর্বৃত্তদের চিনে ফেলার কারণেই মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তবে তদন্তের আগ পর্যন্ত হত্যার কারণ বা হত্যাকারী কারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মনোয়ারা বেগমের চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে একজন আমেরিকা, একজন আয়ারল্যান্ড, একজন ফৌজদারহাট ও একজন ময়মনসিংহে থাকেন।

যে বাড়িতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সেটিতে থাকতেন মনোয়ারা বেগম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মেয়ে মেহেরুন নেছা। অন্য চার মেয়ে স্বামীদের বাড়িতে।

রোববার সকালে মনোয়ারা বেগমের মেজো ছেলে আমেরিকা থেকে মা ও বোনের মোবাইলে ফোন করেন। তাদের দুজনের ফোনই বন্ধ পেয়ে ফৌজদারহাটের বাসিন্দা ভাইকে ফোন দেন।

পরে ফৌজদারহাট এলাকা থেকে মনোয়ারা বেগমের নাতি বেলালসহ কয়েকজন আত্মীয় আমবাগান এলাকার বাসায় এসে দেখেন ভেতর থেকে দরজা আটকানো। পরে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর দিয়ে বিকল্প দরজা খুলে বাসায় ভেতরে ঢোকেন। তারা ওই বাসার কাপড়-চোপড় ও আসবাবপত্র এলোমেলো দেখতে পান। দেখতে পান আলমারি ভাঙা।

আতিপাতি করে তারা স্বজনদের ঘরের ভেতরে-বাইরে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পানির রিজার্ভ ট্যাংকের মধ্যে মা-মেয়ের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।

খুলশী থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিএমপির উত্তর জোনের উপপুলিশ কমিশনার ওয়ারিশ আলম, এডিসি (উত্তর) মিজানুর রহমান, ডিবির এডিসি মো. কামরুজ্জামানসহ পিবিআই, অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ও র‌্যাবের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। বিকাল ৪টার দিকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

ক্রাইম সিনের সদস্য ও সিআইডির পরিদর্শক আমিনুর রশিদ রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকে বলেন, মনোয়ারা বেগমকে গলায় কাপড় প্যাঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় ফাঁস লাগানো ছিল। মেহেরুন নেছার গলায় ভারি বস্তুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুরো বাসায় লুটপাট চালানো হয়েছে।

খুলশী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দিন জানান, ওই ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। ঘরের ভেতরে আলমারি খোলা ছিল, বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করা ছিল। যেহেতু শুধু দুই নারীই ওই বাসায় বাস করতেন তাই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কেউ পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে পানির ট্যাংকে ফেলে গেছে।

তিনি বলেন, দুজনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে। তবে ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়ার ভয়ে তারা সিমগুলো খুলে ফেলে দিয়ে গেছে। দুটি সিম উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে বাসা থেকে টাকা-পয়সা বা অন্য কোনো জিনিসপত্র খোয়া গেছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তে হত্যার প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে বলেও জানান ওসি।