সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে আজ রিয়াদ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

88

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনের সরকারি সফরে আজ মঙ্গলবার সৌদি আরব যাচ্ছেন। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এই সফরে প্রতিরক্ষা এবং তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা বিষয়ে দুইটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী গতকাল সোমবার বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটযোগে ঢাকা থেকে সরাসরি রিয়াদ যাবেন। আগামীকাল তিনি রিয়াদে সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

বিকালে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের নবনির্মিত নিজস্ব ভবন উদ্বোধন এবং কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বারস আয়োজিত বিজনেস সেমিনারে অংশ নেবেন। ১৭ অক্টোবর রাতে প্রধানমন্ত্রী বিয়াদ থেকে মদীনা যাবেন। পরদিন সকালে মহানবী (স.) এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন।

এরপর তিনি মদীনা থেকে মক্কা যাবেন এবং রাতে পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের জন্য সম্প্রতি কেনা জমিতে নতুন ভবন নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করবেন। ১৯ অক্টোবর ভোরে প্রধানমন্ত্রী জেদ্দা থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক বিদ্যমান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুদেশের সম্পর্ক আরও জোরালো ও বহুমুখী হয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাস বিরোধী ইসলামি সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে।

২০১৬ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে ঐতিহাসিক সফর করেন এবং বাদশাহর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেন। সম্প্রতি দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে, তা এখন আরও সুদৃঢ় হবে।

শেখ হাসিনা সফরকালে দেশের আর্থসামাজিক খাতে অর্জিত সাফল্য সৌদি নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরবেন। দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত জ্ঞান ভিত্তিক উন্নত সোনার বাংলা নির্মাণে আরও বেশি সৌদি অংশীদারিত্বের উপায় ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে জানান, রোহিঙ্গাদের প্রথম দলকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধিদল এ মাসের শেষদিকে ঢাকায় আসবেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের কাছে ৮ হাজার জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা দিয়েছিলাম। মিয়ানমার সরকার যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত করেছে। আমরা প্রথম ব্যাচ পাঠানোর চেষ্টা করছি। বলে আসছি রোহিঙ্গারা ফেরত গেলে থাকবে কোথায়? তারা এখন সেটি বুঝতে পেরেছে। এখন দেখা যাক।’