সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন

12

রাজধানীতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ভবনে আগুন লেগেছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, আগুন নেভাতে তাদের পাঁচটি ইউনিট কাজ করছে। হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

ইসমাইল নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালের একটি ভবন থেকে ধোয়া উড়তে দেখেন। তিনিই প্রথম ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তাঁর খবরের পরপরই ফায়ার সার্ভিসের এতটি ইউনিট সেখানে আসে। তবে শুরুতেই পানি পাচ্ছিল না ওই ইউনিট। পরে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পুকুর থেকে পানি তুলে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের তৃতীয় তলার ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি একটি জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। সামান্য একটু আগুন জ্বলছে, সেটি কিছুক্ষণের মধ্যে নেভানো সম্ভব হবে।
আগুন লাগার পরপরই রোগীদের হাসপাতালের ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক রোগীকেই হাসপাতালের সামনের সড়কে দেখা গেছে। আইসিইউতে থাকা রোগীদেরও সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের সেখান থেকে রোগীদের সরিয়ে নিতে এবং আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করতে দেখা গেছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লাগার পর বেশ কিছু রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে রোগীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ দিকে ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত ৭/৮ জন রোগীকে এই হাসপাতালে আনা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ রাত সোয়া আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, আগুন আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। সামান্য একটু আগুন জ্বলছে, সেটি কিছুক্ষণের মধ্যে নেভানো সম্ভব হবে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৬টি ইউনিট। তবে কোনো হতাহতের খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ঢাকা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাদাতাদের সংগঠনের সভাপতি লিটন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে ৭৫ জন রোগীকে সরিয়ে নিয়েছেন। এ জন্য তাঁরা কোনো টাকা নিচ্ছেন না।

আগুন লাগার খবর পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সেখানে গেছেন।