রূপা হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা

156

টাঙ্গাইলের রূপা খাতুন হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল ও মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এবং সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। সোমবার এ রায়ের পর তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মানবাধিকারের কমিশন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, আমাদের দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু এ রায় সেই সংস্কৃতির বিপরীতে একটি উদাহরণ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এ রায়ের ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, রূপা একটি পাশবিক ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। রায়টি দ্রুততম সময়ে হয়েছে এবং যথাযথ হয়েছে বলে আমার মনে হয়। অপরাধীরা এখানে উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। এ ঘটনার পর জনমনে ঘৃণা তৈরি হয়েছিল। মানুষ যেমন রায় কামনা করেছিল, তেমনটাই হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এখানে পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত তাদের তদন্ত করেছে।

আবার তেমনি আদালত যৌক্তিক সময়ের মধ্যে রায় দিয়েছেন। আমার মনে হয়, এর ফলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। আমার প্রত্যাশা, দেশের চাঞ্চল্যকর প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচার আমরা চাই। এখন পর্যন্ত সাগর-রুনির হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হলো না। আমরা আশা করব, এসব নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার হবে।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার ফলে অপরাধ আরও বাড়েÑআমাদের এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ রায়ের ফলে সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিপরীতে একটি উদাহরণ তৈরি হলো।

এ রায়ে ভুক্তভোগীদের পরিবার সন্তুষ্ট হয়েছে। এটা ভালো দিক। আমরা চাই, এমন ভুক্তভোগী সব পরিবারই তাদের কাক্সিক্ষত রায় পাক। এর ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে। এর ফলে অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে।’

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, এ ধরনের দৃষ্টান্ত আমরা ঝুলে থাকা আরও মামলার ক্ষেত্রে দেখতে চাই। এর ফলে আইনের শাসনের যে নাজুক পরিস্থিতি, তার উত্তরণে ভূমিকা রাখবে।’

সুলতানা কামাল বলেন, ‘এ রায়ে প্রমাণ হলো, যদি রাষ্ট্র কোনো অপরাধের বিষয় গুরুত্ব দেয় এবং আন্তরিক হয়, তবে যথাযথ বিচার সম্ভব। এ ধরনের বীভৎস ঘটনা ঘটার পর আমরা মানবাধিকারকর্মীরা সব সময় যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সঠিক বিচারের দাবি করি।

রূপার ঘটনার ক্ষেত্রে যৌক্তিক সময়ে যথাযথ বিচার হয়েছে। আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট। এটি খুব ভালো উদাহরণ তৈরি হলো। তবে এ ধরনের আরও কিছু ঘটনা আছে, সেগুলোর সঠিক বিচারের জন্য আমরা এখনো পথ চেয়ে বসে আছি। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লার তনু হত্যা এবং সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যার কথা স্মরণ করতে পারি।

দুটি ঘটনার পর দীর্ঘ সময় চলে গেল। কিন্তু আজ পর্যন্ত এসব ঘটনার কোনো সুরাহা আমরা দেখতে পাইনি। আমরা খুশি হব এ ধরনের ঘটনাগুলোর যথাযথ বিচার হলে। আমরা তাই চাই, রূপার হত্যায় যেভাবে রায় হলো, এমন উদাহরণ আরও তৈরি হোক।’

সুলতানা কামাল বলেন, রূপা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় যৌক্তিক সময়ে রায়ের এই ঘটনা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। এখন আইনের শাসনের ক্ষেত্রে যে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে এ ঘটনা একটি উদাহরণ।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, রূপা হত্যার রায় ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দৃষ্টান্ত’।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি, এ ধরনের জঘন্য ও নৃশংস ঘটনার বিচার দৃষ্টান্তমূলক হওয়া উচিত। দুটো দিক থেকে এ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে। একটি হলো এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি। দ্বিতীয়টি হলো, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে বিচার।

রূপা হত্যার মামলায় দুটি দিক থেকেই দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। আমি বলব, এ মামলার রায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির একটি দৃষ্টান্ত। দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই রায় একটি উদাহরণ। এ রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, ন্যায়বিচারের দরজা রুদ্ধ নয়। সবার প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকলে সঠিক বিচার সম্ভব।

এ রায় দেওয়ার ফলে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে যেমন উদাহরণ তৈরি হলো, আবার অপরাধীদেরও এ রায় একটি বার্তা দিল। সে বার্তাটি হলো, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। দেশের মাটিতেই বিচার হবে। অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে।’

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার মামলার রায়ে ৪ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- ও ১ জনের ৭ বছরের কারাদ-াদেশ দিয়েছে আদাল।