বিদেশি কূটনীতিকদের যা বলল বিএনপি

94

বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ফের বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা বর্ণনা করলেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। বৈঠকে খালেদা জিয়ার কারাগারের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে কূটনীতিকরা বলেছেন, এ অবস্থায় বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য ও অপর একজন কেন্দ্রীয় নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য জানান।

বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপান, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা ও চীনসহ ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, এ জে মোহাম্মাদ আলী, ড. ইনামুল হক চৌধুরী, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, বেবী নাজনীন, ফাহিমা মুন্নি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল গতকাল কোনো ব্রিফিং দেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ বিএনপি চেয়ারপারসনের দুর্নীতি মামলায় সাজা প্রদান ও কারাগারে তাঁর মানবেতর জীবনের বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পায়। একই সঙ্গে লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দূতাবাসে হামলার অভিযোগ ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিত আকারে একটি বক্তব্য হস্তান্তর করা হয়। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর কূটনীতিকরা বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারের বিষয়টি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই/একজন কূটনীতিকের পক্ষ থেকে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বাংলাদেশে ‘ইনক্লুসিভ’ নির্বাচন সম্ভব হবে কি না সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এ সময় কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সাম্প্রতিক বক্তব্য ‘বিএনপিকে বাইরে রেখে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়’ বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়। তার জবাবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সিইসির কথা কোনোক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ সরকার তার উল্টোটা করছে।