নুসরাতের বড় ভাইকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

9

ফেনীর সোনাগাজীতে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) নুসরাতের পরিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে নোমানের হাতে ব্যাংকের নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খবরটি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। স্নাতকের ফলাফল প্রকাশের পর এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ‘ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার’ পদে যোগ দেবেন নোমান।​

এ বিষয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরি ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নোমানকে এনবিআর গ্লোবাল ব্যাংকে চাকরি দেওয়া হবে। তবে তার স্নাতক পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশ হয়নি। ফলাফল প্রকাশের পরেই সে সোনাগাজী উপজেলার ডাক বাংলো শাখায় ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে যোগদান করতে পারবে’।

তিনি আরও জানান, ‘নুসরাতের পরিবারে প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি নুসরাতের পরিবার এবং তার ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া ও চাকরির বিষয়ে খেয়াল রাখবো’।

নুসরাতের পরিবারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ করে নুসরাত এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী নুসরাতের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান’।

প্রেস সচিব আরও জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় নুসরাতের বাবা-মা এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন’। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাকারীদের কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না’।

গত ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে নুসরাত।

এরপর গত ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম পরীক্ষা দিতে নুসরাত মাদ্রাসায় গেলে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নেয় বোরকা পরা তরুণদের একটি দল।

সেখানে তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বলে। তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারে রাজী না হলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গায়ে আগুন দিয়ে প্রতিশোধ নেয় অভিযুক্ত শিক্ষকের সহযোগীরা। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন নুসরাত।