নিহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে সম্মত জাবালে নূর

77

দুই সপ্তাহ আগে বাসচাপায় নিহত শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এই সপ্তাহেই দিতে হচ্ছে জাবালে নূর পরিবহনকে।

বেসরকারি এই পরিবহন কোম্পানি নিহত দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীবের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দিতে রাজি হয়েছে বলে হাই কোর্টকে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় দিয়া ও রাজীব মৃত্যু হলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।

এর মধ্যে একটি রিট আবেদন হলে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে জাবালে নূর কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়।

রোববার শুনানির পর রিট আবেদনকারী আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, অর্থ পরিশোদের জন্য জাবালে নূর পরিবহন কর্তৃপক্ষ সময় চাইলেও আদালত তা দেয়নি।

“ফলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা দেওয়ার দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা, তা থাকছে। যদিও এক সপ্তাহ এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে। আশা করি, চলতি সপ্তাহেই টাকাটা দুই পরিবার পাবে।”

বিআরটিএ’র আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, “জাবালে নূর নিহত দুই শিক্ষার্থীর দুই পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেবে বলে সম্মত হয়েছে। আমরা সেটা আদালতকে বলেছি।”

নিহত দিয়া ও রাজীবের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হাই কোর্ট ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গণপরিবহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয় এবং সড়কে চলাচলকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বিআরটিএকে নির্দেশ দিয়েছিল।

বিআরটিএ ওই প্রতিবেদন দাখিল করেছে, যা আদালতে উপস্থাপন করেন কর্তৃপক্ষের আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। আদালতে জাবালে নূরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু।

আদালত এই দুর্ঘটনায় জাবালে নূর পরিবহনের দায় নিরূপণে তদন্ত করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাদের সহায়তা করবে পুলিশ ও বিআরটিএ। দুই মাসের মধ্যে এ প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাই কোর্ট।