নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২২ শিক্ষার্থীর সবাই কারামুক্ত

64

নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার অভিযোগে ভাটারা ও রামপুরা থানার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীর সবাই ঈদের আগে ছাড়া পেলেন কারাগার থেকে।

আফতাবনগর এলাকার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বসুন্ধরা এলাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, তেজগাঁও এলাকার সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ২২ শিক্ষার্থী গত ৬ অগাস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর রিমান্ড শেষে কারাগারে ছিলেন।

তাদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের কর্মসূচির মধ্যে রোব ও সোমবার তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার হাকিম আদালত।

এরপর রোববার ১৬ শিক্ষার্থী কারামুক্ত হয়। সোমবার বিকালে সর্বশেষ চার শিক্ষার্থীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে কারা কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ২২ শিক্ষার্থীর আর কেউ আর বন্দি নেই।

বিকালে চার শিক্ষার্থীকে কেরানীগঞ্জের কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “চারজনের জামিনের কাগজ পাওয়ার পর আমরা দ্রুততার সঙ্গে তাদের মুক্তি দিয়েছি।

আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার আরও নয়জনকে সোমবার সকালে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী জানিয়েছিলেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের মধ্যে গত ৫ ও ৬ অগাস্ট রাজধানীতে কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়।

ওই সব ঘটনায় দণ্ডবিধি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ বিভিন্ন থানায় মোট ৪৩টি মামলা করে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ৮১ জনকে।

তাদের মধ্যে ৪১ জনকে রোববার জামিন দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের কয়েকজন বিচারক।

জামিন পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়জনকে রোববারই মুক্তি দেওয়া হয়। আর সোমবার দুই দফায় মুক্তি পাওয়া ১৩ জনকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন স্বজনরা।

ঈদের আগেই সন্তানরা জামিনে মুক্তি পাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

এই ২২ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড্ডার মামলার আসামিরা হলেন- রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান।

ভাটারা থানার মামলার আসামিরা হলেন, আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান।