গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে সবাইকে সংগ্রামে নামতে হবে: ফখরুল

2

গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে একযোগে সংগ্রামে নেমে পড়তে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরের দিকে সবাই তাকিয়ে থাকে। তাই আপনারা সংগঠিত হন। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই যাতে রাস্তায় নেমে আসতে পারেন।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন ভাসানী মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এক সিডি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, যদি বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন না হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে যদি মুক্তি দেয়া না হয়, যদি সংসদ ভেঙে দেয়া না হয়, যদি সেনাবাহিনী মোতায়েন না হয়’ তাহলে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এবং বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। সেই আন্দোলন তখন সফল হবে যখন গণতন্ত্র ও বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারবো। আর জাতীয় ঐক্যের মধ্যে দিয়েই এ পাথর (সরকার) সরাতে হবে। এ দানবকে সরাতে হবে। তারা (সরকার) দানবের চেয়েও খারাপ অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন ‘দানবকে সরাতে হলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল-মতনির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং সকল ব্যক্তির ঐক্য সৃষ্টি করে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

খুলনা নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে তার তদন্ত হওয়া উচিত- ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের এ বক্তব্যে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন তদন্ত করবে না। কারণ ইসি সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, আমরা কথা বলছি, কাজ করছি, আন্দোলন করছি এবং আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা জেলে গেছে। কিন্তু এরপরও আমরা বেগম জিয়াকে বাইরে আনতে পারিনি। এটা একদিকে যেমন ব্যর্থতা অন্যদিকে সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশিত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচন বেগম জিয়া অংশগ্রহণ করলে তাদের ভরাডুবি কেউ ঠেকাতে পারবে না। সেই কারণে অত্যন্ত সু-পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করে নির্বাচনের আগে মিথ্যা মামলায় তাকে কারাগারে আটক করেছে।

‘কোটি জনতার মা’ পর্ব-১’ সিডি উদ্বোধন এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন খান উজ্জ্বল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ- সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কণ্ঠশিল্পী নাসির প্রমুখ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, জাসাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসান উল্লাহ চৌধুরী, মাকসুদুর রহমান টিপু, মহানগর বিএনপি নেতা মীর হোসেন মিরু, ইকবাল হোসেন নান্টু প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছা সেবক দল নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু।