মহাত্মা গান্ধীর বিখ্যাত মূর্তিতে চশমা না থাকা নিয়ে রহস্য

81

হিমালয় রবিউল:

পরিচিত ব্যক্তিত্ব। চেনা মূর্তি। তবে কোথায় যেন ছন্দপতন। আর এই ছন্দপতনই তাঁর ১৪৯তম জন্মদিনে সংবাদ শিরোনামে। দিল্লির চাণক্যপুরীর বিখ্যাত  ড্যান্ডি অভিযান মূর্তিতে ভারতের জাতির জনকের অন্যতম চিহ্নটাই নেই।

মহাত্মা গান্ধীর এই মূর্তিতে তাঁর বিখ্যাত চশমাবিহীন। এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘এগারো মুর্তি’ নামে পরিচিত এই ভাস্কর্যে গাঁধীর চশমাহীনতা আজ দিল্লি পুলিশের খাতায় একটি অমীমাংসিত ডায়েরি হিসেবেই বিরাজ করছে।

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে মাদার তেরেসা ক্রিসেন্ট-এর জনৈক বাগান পরিচর্যাকারী লক্ষ্য করেন, গান্ধীর মূর্তিটির কোথাও যেন কিছু একটা নেই। ভাল করে লক্ষ্য করলে তিনি টের পান গান্ধীর চোখে সেই বিখ্যাত গোল চশমাটিই নেই।

নতুন দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে চাণক্যপুরী থানায় চশমা হারোনোর বিষয়ে একটি অভিযোগও নথিভুক্ত হয়। আজ সেই ডায়েরির কথা পুলিশেরও বোধ হয় মনে নেই। যে বাগান পরিচারক বিষয়টি সেই সময়ে নজরে এনেছিলেন, সেই মনোহরলাল গোসাঁই স্মৃতি হাতড়ে সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

তার মতে, চশমাটি পাথরেরই ছিল। তার দুই পাশের ডাঁটি ভেঙে গিয়েছিল। সেই সময়ে চাণক্যপুরী থানায় কর্মরত পুলিশ অফিসার শ্রীকান্ত যাদব আজ অবসরপ্রাপ্ত। তিনি জানান, চশমা-চোর ধরতে বহু চেষ্টা করা হয়েছিল সেই সময়ে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও কিনারা করা যায়নি। পরে অবশ্য এই মূর্তি যাতে আর না ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেই উদ্দেশে একটি পুলিশ পিকেট সেখানে বসানো হয়।

নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের অফিসাররা জানিয়েছেন, চার বার গান্ধীর মূর্তির চশমা বদলানো হয়েছিল। চার বারই চশমা খোয়া যায়।

গান্ধীর ড্যান্ডি অভিযানের এই মূর্তিটির স্থপতি ছিলেন বিখ্যাত ভাস্কর দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী। গান্ধীর সঙ্গে এই মূর্তিতে আরও ১০টি মানবমূর্তি রয়েছে, যারা ভারতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্রের দ্যোতক।