বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে গাজিপুরের পোশাক শ্রমিকরা

5

এম. এস. রুকন: 

২০১৮ সালের মধ্যে বর্তমান সরকার পোশাক শ্রমিকদের জন্য যৌক্তিকভাবে নূন্যতম মজুরি ঘোষণা না করলে ২০১৯ সালের শুরুতেই বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পোশাক শ্রমিকরা।

মহান মে দিবস উপলক্ষে গাজীপুরের স্থানীয় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকার দফায় দফায় স্কুল কলেজসহ সব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনভাতা বৃদ্ধি করেছেন।

যার প্রভাবে বাজারে দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছে নি¤œ আয়ের শ্রমজীবি মানুষেরা। বিশেষ করে এ অঞ্চলের পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের মতে, দেশের ৪৪ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা অক্লান্ত শ্রমের বিনিময়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। অথচ, এই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কারখানা মালিক, বিজিএমইএ এবং সরকারের যথাযথ কর্তপক্ষ উদাসীন।

গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানান, পোশাক শ্রমিকরা বর্তমানে যে হারে বেতন ভাতা পায়, তা দিয়ে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব। একজন শ্রমিকের নূন্যতম মজুরী কমপক্ষে ১৬০০০ না হলে বাসা-ভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় সহ ছেলেমেয়েদের লেখা পড়া করানো যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ অঞ্চলের কয়েকজন স্থানীয় শ্রমিক জানান, আমরা অপেক্ষায় ছিলাম শ্রম মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে ২০১৮ সালের শুরুতেই বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে নতুন একটা ঘোষনা আসবে। কিন্তু আমাদের সে আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে। নতুন বছরে ৫ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও ইতিবাচক কোনো আশ্বাস পেলাম না।

গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় এমএম গার্মেন্টস এর সিনিয়র অপারেটর মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা কোনো দাবির কথা বললেই গার্মেন্টস মালিকরা অবাদে শ্রমিক ছাটাই করে এবং কৌশলে আমাদেরকে অবৈধ শ্রমিক আন্দোলনকারী বলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে।

প্রস্তাবিত বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন শ্রীপুর আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী বাবুল জানান, দেশের পরিসংখ্যাণ ব্যুরো এর তথ্য মতে, ৩০ লাখ ৬০ হাজার জন শ্রমক্ষম মানুষ বেকার। এর মধ্যে কয়েক হাজার গার্মেন্ট শ্রমিকও রয়েছে। এ অবস্থায় গার্মেন্টস মালিকরা নানা অযুহাতে শ্রমিকদের ছাটাই করে দেশের বেকরাত্ব বৃদ্ধি করছে।

গাজীপুর সদরে পলমল গ্রপের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিজিএমইএ এবং সরকার পক্ষ শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করতে পারে। এতে মালিকরা শ্রমিক অসন্তুষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

বিজিএমই এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনেরা সহজ-সরল। তাদের তৃতীয় পক্ষ উষ্কানি দিয়ে রাস্তায় নামায়। অনেক শ্রমিকরা জানে না এর পরিণতি কি হবে। পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে এ মুহুর্তে কোনো ঘোষনা নেই। সরকার অবস্থা বুঝে যে ব্যবস্থা নিবেন তাতে আমরা একমত প্রকাশ করবো।