বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসবে

275

রেদওয়ান উল্লাহ: মনিকা ইসলাম, বয়স-১৯ বৎসর। তার  বাবার স্বপ্ন ছিল মনিকা একদিন লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। আরো দশটা মেয়ের মতো একসময় বিয়ের পিঁড়িতে বসবে একদিন মা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

তবে বাবার সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেল। নভেম্বর ২০১৬ মনিকার সহপাঠীরা সবাই যখন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঠিক তখনই মনিকার স্থান হলো মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালের বিছানায়।

মরণব্যাধি ব্ল্যাড ক্যান্সার (এ এম এল) এ আক্রান্ত হলো মনিকা। একটানা ৬ মাস তার শরীরে প্রয়োগ করা হলো বিষাক্ত আর ভয়ঙ্কর কেমোথেরাপি। তারপর এক সময়  তার বাবা জানতে পারলেন মনিকা ভাল হয়ে গেছে। তাকে নিয়ে বাড়ীতে চলে গেল।

মনিকার জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন

মনিকাকে নিয়ে আবারো স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন তার বাবা। মনিকা পুনরায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলো। তবে নাহ! এখানেও বিধি বাম। ২১ নভেম্বর ২০১৭ মনিকার আবার ঠাঁই হলো মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালের বিছানায়। তার ভর্তির রেজিঃনং-১৬/২৪১৪৫ এখন পর্যন্ত সে কেবিন নং-৮১৬/বি তে শুয়ে মৃত্যুর সাথে নিরন্তর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

মনিকার বাকী চিকিৎসা হলো এ্যারোজেনিক বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট যা আমাদের দেশে এখনো চালু হয়নি। বিদেশে এই চিকিৎসার ব্যয় হয় প্রায় এক কোটি  টাকা। তার বাবা একজন ক্যান্টিন ব্যবসায়ী হয়েও মেয়ের জন্য ৩০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে এখন সর্বস্বান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন।

মনে মনে স্বপ্ন দেখছেন দেশের মানুষ, প্রবাসী, স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী  বিত্তবানরা যদি মনিকার পাশে এগিয়ে আসেন তাহলে এই টাকার জন্য তার চিকিৎসা আটকে থাকতে পারে না। বিপন্ন মানবতাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখেছেন মনিকার বাবা।

মাদার অফ হিউম্যানিটি  ও  ১৬ কোটি মানুষের অভিভাবক  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জীবনের সকল স্বপ্নের উৎস কন্যা মনিকার জীবন বাঁচাতে মনিকার পাশে এগিয়ে আসার জন্য বিনম্র আহবান  জানিয়েছেন। মনিকার বাবার ধারণা হয়তো আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে  মনিকা বেঁচে যাবে। মনিকা সুস্থ ও স্বাচ্ছন্দময় জীবন ফিরে পাবে। বাবার স্বপ্ন পূরণ হবে।

মনিকার বাবার এই আবেদন সকল শ্রেণীর মানুষ ও মানবতার জননী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১৯ জানুয়ারী শুক্রবার সকাল ১০টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে ঢাকাস্ত দিঘলবাড়ী, খুলনা সংগঠন, বন্ধন পরিবারসহ অন্যান্য সংগঠন। সেবা ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মহিউদ্দিন পলাশ মনিকাকে বাঁচাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে আহবান জানান। যে কারো সামান্য আত্মত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধ হয়তো মনিকাকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগাবে।

যদি কোন স্বহৃদয়বান ব্যক্তি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে চান তাহলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন নিম্ন ঠিকায়।

শেখ মনিরুল ইসলাম (মনিকার বাবা)

সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ১২০১৫১১৩৩১৩

ডাচ-বাংলা ব্যাংক, খুলনা শাখা, খুলনা

বিকাশ নম্বর: ০১৭১১-৪৫০১৯৫, ০১৬৭৫-৬৮০৩৮৫

মনিকা ইসলামের স্থায়ী ঠিকানা: পিতা: শেখ মনিরুল ইসলাম, গ্রাম+ পোঃ চন্দনীমহল, উপজেলা-দিঘলিয়া, জেলা- খুলনা। এই বিষয়ে কিছু জানতে মোবাইল নং- ০১৬৭৬৫৩৪৮২৫ (মনিকার কাকা)

মনিকার একুইট মাইলয়েড লিউকেমিয়া। ব্লাড ক্যান্সার প্রজাতির মধ্যে এই ব্লাড ক্যান্সারই সবচেয়ে সিরিয়াস টাইপের। বাংলাদেশে এই রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে। মনিকার সেই চিকিৎসা শেষ হয়েছে। মনিকার রোগ যতই বড় হোক না কেন এই রোগের চিকিৎসাও আছে। মনিকা ভাল হয়ে যাবে যদি তাকে টাটা মেমোরিয়াল কলকাতা শাখা বা চেন্নাই সিএমসিএইচ হাসপাতালে নিয়ে  চিকিৎসা করানো হয়।

সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মনিকাকে বাঁচাতে মানববন্ধন

ওই হাসপাতালে লিউকোমিয়ার রোগীদের বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট হলেই মনিকা ভাল হয়ে যাবে। ট্রিটমেন্ট খুব ব্যয়বহুল। মনিকার বাবার মত সাধারণ ব্যবসায়ীর জন্য অসম্ভব ব্যাপার। এই জন্যই দেশবাসীর কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়েছেন তিনি।

আল্লার রহমতে সবাই এগিয়ে আসলে বা সরকার চাইলে এটা অবশ্যই সহজ হয়ে যাবে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে মেধামী শিক্ষার্থী মনিকা পাবে সুন্দর একটি জীবন তার পরিবার পাবে তার প্রিয় সন্তান।