জাসদের কাঁধে ভর করে তৈরি হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট

138

স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীন একটি দেশের এগিয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারছিল না পাকিস্তানপ্রেমীরা। ক্ষমতার লোভে শুরু থেকেই ছিল দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। স্বাধীনতার পর পর গঠিত প্রচণ্ড সরকারবিরোধী দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ওপর ভর করে তারা বঙ্গবন্ধু সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে দেশব্যাপী শুরু করে গুম, হত্যা, লুটপাট ও অরাজকতা। এভাবে নিখুঁত পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয় বলে মন্তব্য করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে দেখি জাসদ প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সংসদে তখন তাদের তিনজন সদস্য। ’৭৫-এর শুরুতে বাকশাল গঠনের পর রাজনৈতিক নেতারা দলে দলে যোগ দিলেও অনেকের মধ্যে ছিল ক্ষোভ। এই সুযোগটি কাজে লাগায় ষড়যন্ত্রকারীরা। আওয়ামী লীগ বিরোধী এমনকি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী যারা ছিল তারা অনেকেই এই সুযোগে জাসদের কাঁধে সাওয়ার হলো। তবে নেতৃত্বে ছিলেন না তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ বা তৎকালীন বাকশাল নেতারা সে সময় এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। ক্ষোভের যে জায়গাটা এই শর্তগুলো তৈরি করে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। তার মধ্যে বাইরের শক্তিগুলো এসে কাজ করেছে। বিষয়টা কখনো এরকম হতে পারে না যে, সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল হঠাৎ একজন এসে বলল, চলো আমরা ষড়যন্ত্র করে সরকারকে উত্খাত করে দিই। ঘটনা কখনো এভাবে ঘটে না। সবারই এর মধ্যে দায় আছে। যদিও বলা হয় কয়েকজন বিপথগামী সেনা সদস্য এসে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। কিন্তু তারা পুরো সামরিক বাহিনীর সমর্থন পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে প্রতিবাদ না হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সবার আসল চেহারা বের হয়ে আসে। বিশেষ করে হত্যার প্রতিবাদ না হওয়া এখনো প্রশ্নের জন্ম দেয়। আওয়ামী লীগ যে চূড়ান্তভাবে একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক দল তা প্রমাণিত হলো ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলো অথচ প্রতিবাদে পথে কেউ বের হলো না। মাত্র ৩০০ সৈন্য নিয়ে বের হয়েছিল আর্মির দুটি ইউনিট। তখন তো দেখতাম হাজার হাজার লোক দরখাস্ত দিয়ে বাকশালের সদস্য হতে চাইত। এরা তো কেউ বের হলো না। তার মানেটা কী, এরা সবাই হচ্ছে বসন্তের কোকিলের মতো। সুবিধার লোভে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা ছিল না।