এই জেনারেশন হু কেয়ারস জেনারেশন

14

মিজানুর রহমান চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকারের তথ্যমন্ত্রী। এই মানুষটার সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক ছিল। একবার আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, বঙ্গবন্ধুর কেবিনেট-ছাড়া নিয়ে আপনার সম্পর্কে বাজারে প্রচলিত গুজব কতটা সত্য? জবাবে তিনি হাসলেন। বললেন, এ প্রশ্ন তুমি অনেকবার আমাকে করেছ। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাজনীতি করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমাকে পছন্দ করতেন। আর করতেন বলেই আমি তার কেবিনেটে ছিলাম। তুমি সাংবাদিক হিসেবে জানো, তথ্যমন্ত্রী যিনি থাকেন সব সরকারের আমলেই তার সঙ্গে সাংবাদিকদের, সংস্কৃতিসেবীদের একটা সম্পর্ক থাকে। আমি রাজনীতি করেই মন্ত্রী। আমার দরজা সারা জীবন মানুষের জন্য খোলা ছিল। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হয়েও একই ছিলাম, আছি। আমার বেডরুমে সাংবাদিকদের যেমন প্রবেশাধিকার আছে, তেমনি কর্মীদের আরও বেশি আছে। স্বাধীনতার পর আমার কাছে অনেক বুদ্ধিজীবী পরিবার আসতেন তাদের সমস্যা নিয়ে। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে তাদের এড়াতে পারতাম না। তেমনি একজন একবার এলেন তার স্বামীকে উদ্ধারে সহায়তার জন্য। তার সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও থাকতেন। তবু এ নিয়ে প্রতিপক্ষরা বঙ্গবন্ধুর কানে ভুল তথ্য দিলেন। বঙ্গবন্ধুও আমাকে ভুল বুঝলেন। মিজান চৌধুরী আবেগ আপ্লুত হয়ে মোশতাক চক্রকে ইঙ্গিত করে বললেন, কুমিল্লার রাজনীতিতে কেবিনেটে বেশি লোক থাকুক তারা তা চায়নি। আর চায়নি বলেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক নষ্টের জন্য উঠেপড়ে লাগে। পরবর্তীতে মিজানুর রহমান চৌধুরী তার আত্মজীবনীতেও এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। এ ঘটনায় বঙ্গবন্ধু একদিন ডেকে নিলেন মিজান চৌধুরীকে। জানতে চাইলেন কেন এই বিতর্ক? মিজান চৌধুরীর জবাব বঙ্গবন্ধুর কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। সবকিছু অনুধাবন করে তিনি পদত্যাগ করেন। অবশ্য এরশাদের প্রধানমন্ত্রী পদও ছাড়তে হয়েছিল তাকে। কারণ গোয়েন্দা রিপোর্টে ছিল পার্লামেন্টারি ক্যুর গুজব। ’৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়। আসনও খারাপ ছিল না। এ কারণে গুজব ছড়ায় জাতীয় পার্টির আওয়ামী ঘরানার অংশকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্টে ক্যু করতে পারেন মিজান চৌধুরী। বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে তার গোপন যোগাযোগ রয়েছে। এ রিপোর্ট পেয়ে এরশাদ পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। মিজান চৌধুরীর প্রধানমন্ত্রিত্ব যায়। এরশাদের পতনের পর আবার দলটিকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর রাজনীতি শুরু করেন মিজান চৌধুরী।

একটা সময় ছিল মন্ত্রিসভার সদস্যদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন হতো। ভালো করলে পদোন্নতি। খারাপ করলে বিদায়। এ রেওয়াজগুলো উঠে যাচ্ছে। সেদিন আমার এক বন্ধু জানতে চাইলেন আচ্ছা মন্ত্রী শাজাহান খান হাসলেন কেন? এটা কোনো কথা হলো সিরিয়াস একটা ইস্যুতে এভাবে হাসা? জবাবে বললাম, কিছু কিছু রাজনীতিবিদ আছেন এমনই তাদের চেহারা ও এক্সপেরেশন। বিএনপির একজন নেতাও শোকের পরিবেশে হাসিমুখে থাকেন। কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর জানাজা অনুষ্ঠানে তাকে হাসি হাসি মুখে দেখেছিলাম। শাজাহান খান একজনের কাছে বলেছেন, হাসির জন্য তিনি কারাভোগ করেছেন। ’৮১ সালে তাকে আটক করা হয়। জামিন আবেদনের পর বিচারক তাকে খালাস দেওয়ার নির্দেশ দেন। আর সঙ্গে সঙ্গে হেসে ফেলেন শাজাহান খান। বিচারক এই হাসিতে বিরক্ত হন। ক্ষুব্ধ হন। সঙ্গে সঙ্গে চার মাসের কারাভোগের নির্দেশ দেন। সাগর-রুনির হত্যার পর একজন পুলিশ কর্মকর্তার ব্রিফিংয়ের কথা মনে পড়ছে। এই কর্মকর্তাও হাসি হাসি মুখে উত্তর দিয়েছিলেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের; যা পুরো সাংবাদিক সমাজকে ব্যথিত করেছিল। ক্ষুব্ধ করেছিল। সেই সব বিষয় ছাড়িয়ে গেছে এবারকার হাসি। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সামাজিক গণমাধ্যম ও রাজপথ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে উত্তাল করে তোলে রাজধানীসহ সারা দেশ।

আন্দোলন চলাকালে মানুষের কাছে আওয়ামী লীগের অনেক বড় নেতা ও মন্ত্রীর নিশ্চুপতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংকট নিরসনে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকেই সব কাজ করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সব কিছু স্বাভাবিক করে আনেন। আমার প্রশ্ন— প্রধানমন্ত্রী সব করলে বাকি মাননীয়দের কাজটা কী? সব মাননীয়কে বুঝতে হবে কারও ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতা আজ আছে কাল নেই। কারও কারও কর্মকাণ্ডে মনে হয়েছে, সরকারের ভিতরেও ষড়যন্ত্র আছে। গণবিচ্ছিন্ন মানুষ আছে। জটিলতা আছে। পরস্পরের সঙ্গে হিংসা-বিদ্বেষ তৈরির কারিগর আছে। পাহাড়সম সমস্যা জিইয়ে রাখার লোক আছে। আবার এর মাঝে আছে ১০ বছরে ক্ষমতার ভাগ নেওয়া নতুন আরেক দল। মাঝে মাঝে তাদের জ্ঞানী কথা শুনি। কিন্তু ওরা আওয়ামী লীগের ইতিহাস জানে না। বঙ্গবন্ধু বোঝে না। শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব নিয়েও তাদের ধারণা নেই। ইতিহাসকে কীভাবে সামনে নিতে হবে তা তারা জানে না। এই নবাগত, বহিরাগতরা আওয়ামী লীগের অতীত দূরে থাক ২০০১ সালের পর কী হয়েছিল দেশে তাও ঠিকমতো জানে না। অথবা জেনে শক্ত অবস্থান নিয়ে সব কথা বলতে জানে না। তারা রাজপথ দেখেনি। জানে না দুঃসময়ে তখন সুধাসদনে কারা ছিল। সোহেল তাজ, সাবের হোসেন চৌধুরীর রাজপথে পিটুনি সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই। মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুনদের রাজপথ আঁকড়ে থাকা সম্পর্কেও তারা জানে না। কী হয়েছিল ২১ আগস্ট? এই প্রশ্নের উত্তর অনেকে ঠিকমতো দিতে পারে না। আহসান উল্লাহ মাস্টার, শাহ এ এম এস কিবরিয়ার রক্ত হাইব্রিডরা দেখেনি। ওরা ১০ বছর ধরে শুধু ক্ষমতা দেখেছে। জেনেছে কীভাবে অর্থবিত্ত সহজে করা যায়। কঠিন বাস্তবতা কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, সামাল দিতে হয় এটা অনেকের অজানা। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, ক্ষমতার শেষ সময়ে ছাত্রলীগের কমিটি বদলকারী নেতারা এবার সংসদে ফিরতে পারবেন তো? দরকার ছিল কি? সামনে একটি নির্বাচন। ভোটের মাঠে মন জয় করতে হয় সাধারণ মানুষের। গায়ের জোরে সব সময় সবকিছু হয় না। ২০১৪ সাল এবার নাও ফিরে আসতে পারে। তিন সিটিতে অনেক ঝড় মোকাবিলা করতে হয়েছে। তিন শ আসন মোকাবিলা করতে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মানুষের মনের ভাষা বুঝতে হবে। কোটা সংকটের সমাধান আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করা ভালো। সড়ক নিয়ে শুধু বক্তৃতা দিলেই চলবে না। কাজও করতে হবে। তরুণদের দেখানো পথকে ইতিবাচকভাবে নিতে হবে। সড়ক সংস্কারে মন দিতে হবে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আইন লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানার অর্থের ৩০ শতাংশ ট্রাফিক বিভাগকে দিয়ে দিন। তাহলে বেড়ে যাবে ট্রাফিক বিভাগের তৎপরতা। রাস্তায় সিসি ক্যামেরা লাগান। আমি, আপনি যে আইন লঙ্ঘন করবে জরিমানার চিঠি চলে যাবে। মাফের সুযোগ নেই। যেখানে সেখানে পার্কিং বন্ধ করুন। একই সঙ্গে বন্ধ করুন বিআরটিএর দুর্নীতি। বোঝার চেষ্টা করুন মানুষকে। দেখবেন অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে গেছে। বাস্তবতা ফিরে এসেছে সড়ক-মহাসড়কে।

যেখানে গলদ সেখানে হাত দিতে হবে। মিথ্যা অহংকার জাগিয়ে রেখে কী লাভ? মানুষের জন্য হোক রাজনীতি। জীবনের গতিকে থামিয়ে রাখার যৌক্তিকতা নেই। সামনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। মিথ্যাচার দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারে না। সমাজকে, দেশকে এগিয়ে নিতে তারুণ্যের সঙ্গেই থাকতে হবে। তারুণ্য, প্রাণোচ্ছলতাকে অবহেলা করা যায় না। আর কোনো কোনো অবহেলার চূড়ান্তও ভালো হয় না। ইতিহাস তারুণ্যের পক্ষেই থাকে। আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু তারুণ্যকে জাগিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। ’৫২, ’৬৯, ’৭১ তারুণ্যর অবদান। আমার ভাইটির একাত্তরে কত আর বয়স ছিল? ছাত্রলীগ করত। কলেজ ছাত্র সংসদে ছিল। মুক্তিযুদ্ধে চলে গেল। তার কারণে অংশ নিলেন খালাতো ভাই। মামাও নামলেন। আমার মা তাদের পাশে দাঁড়ালেন। এই আমার বাংলাদেশ। এখন আওয়ামী লীগ কী করে এর বাইরে যাবে? অতীতের ঐতিহ্যকে লালন করে সুন্দরতম আগামীর পথেই থাকতে হবে আওয়ামী লীগকে। প্রজন্মকে জানাতে হবে কীভাবে আওয়ামী লীগ মহাপরিকল্পনা নিচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। শিশুদের বুকে টেনে নিতে হবে। কোমলমতিদের জেগে ওঠাতে ভয়ের কিছু দেখি না আওয়ামী লীগের। অন্যদের থাকতে পারে। তারুণ্য পথচলা আমার ভালো লেগেছে। অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশে যখন মাস্টারমাইন্ড, স্কলাসটিকা, ডিপিএস, আগা খান, ভিকারুননিসা, নটর ডেমকে রাজপথে দেখেছি। এসব ছাত্র মাঠে নামলে ঘুণেধরা সমাজ ঝাঁকুনি খাবেই। আমাদের এই ঝাঁকুনির দরকার ছিল। এখন ঝাঁকুনিকে নেতিবাচকভাবে নেওয়া যাবে না। ইতিবাচক চিন্তায় কাজে লাগাতে হবে। নতুন প্রজন্মকে নিয়ে ভাবতে হবে। তাদের চিন্তাকে সম্মান দিতে হবে। একটি সুন্দর আগামী আমরা দেখতে চাই। বাংলাদেশ বিশ্ববাস্তবতায় এগিয়ে চলছে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে। আমাদের তরুণরা পিছিয়ে থাকবে কী করে? সৃষ্টিশীল চিন্তার জগৎ জোর করে বন্ধ করা যায় না। মনে রাখা দরকার, আইনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই ছাত্ররা বেরিয়ে এসেছে। পশ্চিমা দুনিয়ায় সবাই বলে, হু কেয়ারস! আমাদের দেশের ছাত্ররাও এবার তাই করেছে। এই ছাত্ররা জানিয়ে দিয়েছে কাউকে তোয়াক্কা করার কিছু নেই আইনের প্রশ্নে। সবাইকে আইনের শাসনের পথে থাকতে হবে। আপনি যেই হোন আইন মানুন। একজন সেদিন বললেন, ওরা কোন আইনে রাজপথে? আমি বললাম, সামাজিক গণমাধ্যমে ওরা জানান দিয়েছে, যে আইনে বঙ্গবন্ধুু, শেখ হাসিনা রাজপথে ছিলেন একই আইনে তারাও। এই তারুণ্য দেখে আমি বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী। আমাদের সন্তানরা বিচারপতি, সাংবাদিক, পুলিশ, আর্মির গাড়ি থামিয়েছে। তাদের কাছে মন্ত্রী-এমপি বিষয় ছিল না। তারা সমাজকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে কার কোথায় ভুল। এ ভুল এখন বড়দের সংশোধন করতে হবে। এই শিশু-কিশোররা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে। তারা জানে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়কের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা। তাই তারা প্রবীণ জননেতাকে রাজপথে তাদের সঙ্গে শামিল করে একাত্মতা প্রকাশ করিয়েছে। একজন এমপিকে ২ ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করিয়েছে। এই জেনারেশন হু কেয়ারস জেনারেশন। এই প্রজন্মকে নিয়ে কেউ রাজনীতি করার চেষ্টা না করাই ভালো। কারণ তারা স্লোগান দিতে জানে, ‘যদি তুমি ভয় পাও/তবে তুমি শেষ/যদি তুমি রুখে দাঁড়াও/তবে তুমি বাংলাদেশ।’

মানুষের অন্তর বুঝতে হবে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে সমস্যা হয়। এখানেও তাই। তাই জনগণের কাছে যেতে হবে সরকারের সাফল্যগুলো নিয়ে। প্রজন্মকে বোঝাতে হবে সরকারের আগামী। যারা গত ১০ বছরে অর্থবিত্ত কামিয়েছেন, দলে ও সরকারে ক্ষমতা এনজয় করেছেন, তাদের এবার দেওয়ার পালা। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শেষ ঠিকানা। শেখ হাসিনা না থাকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অস্তিত্ব থাকবে না। হিসাব মিলিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে চলতে হবে। তিন সিটি আর তিন শ আসন এক নয়। প্ল্যানটা তিন শ আসন নিয়েই করতে হবে। আগামী ভোটে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না। আওয়ামী লীগে লোকের অভাব নেই। নেতার অভাব নেই। আগামীতে মসনদ নিরাপদ রাখতে হলে শতাধিক আসনে প্রার্থী বদল করতে হবে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতার এলাকার অবস্থাও ভালো নয়। তাদের কেন্দ্রে রাখুন। এলাকায় পাঠানোর দরকার নেই। নির্বাচন পরিচালনায় অধিকতর সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ভোটে একটি আসনও গুরুত্বপূর্ণ। ’৯৬ সালের নির্বাচনের পর দেখেছিলাম আসন সংকটের কারণে আওয়ামী লীগকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। একটি আসনের জন্য যেতে হয়েছিল আ স ম আবদুর রবের কাছে। ধানমন্ডির শেরে খাজার বাড়িতেও হয়েছিল একাধিক বৈঠক। সেসব ইতিহাস অনেকের জানা নেই। আবার অনেকে ভুলে গেছেন। যে এমপি মনে করেন পুলিশ তাকে জয়ী করে আনবে তাকে কেন মনোনয়ন দিতে হবে? পুলিশ দিয়ে ভোট হবে না। ভোট করতে হবে জনগণকে আস্থায় রেখে, কর্মীদের ওপর নির্ভর করে। অনেক এমপি এলাকায় শুধুই গ্রুপিং বাড়িয়েছেন। কেউ কেউ টিআর, কাবিখা বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার কেউ স্কুলের পিয়ন, নৈশপ্রহরী, দফতরি, শিক্ষক, পুলিশের সেপাই নিয়োগে পয়সা নিয়েছেন। এ ধরনের এমপিদের মানুষ ভোট দেবে না। পরিবারতন্ত্র কায়েমকারীদের পাশে কর্মীরা থাকবে না। তারা এখন প্রশ্ন করবে আপনি এমপি, আপনার স্ত্রী মেয়র, পুত্র দলীয় নেতা, ভাতিজা, ভাই, চাচা, অন্য আত্মীয় পরিজনকে নিয়ে ১০ বছর কাটিয়ে এখন আমার কাছে কী চান? ভোটারবিহীন এমপি হয়ে অনেকে এলাকায়ই যাননি। অনেকে অ্যান্টি পিপল অবস্থানে ছিলেন। ব্যস্ত ছিলেন শুধুই কামাই রোজগারে। এই বিতর্কিতদের আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে কেউ দেখতে চায় না। মনোনয়ন দিতে হবে বিতর্কহীন শক্তিশালী প্রার্থীদের। পাশাপাশি দলীয় প্রচারণা নিয়ে প্রবেশ করতে হবে নতুন প্রজন্মের কাছে। তাদের জানাতে হবে, যে বাংলাদেশ তুমি গড়তে চাও এই বাংলাদেশ একজনই বাস্তবায়ন করতে পারেন। এই একজনের দেখানো পথে তোমরাও শামিল হও। পাবে সুন্দর আগামী।