এ টি এম শামসুজ্জামানের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বডুয়া। এদিকে আজ সোমবার তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক হাসপাতালের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘বরেণ্য এই অভিনেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে নিয়েছেন। তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে যা যা করণীয়, সবই তিনি করবেন বলেছেন।’

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানকে দেখতে যায়। এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া, জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন, সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার। ওই সময় বিপ্লব বড়ুয়া প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১০ লাখ টাকার চেক এ টি এম শামসুজ্জামানের পরিবারের মাধ্যমে হাসপাতালের তহবিলে জমা দেন। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় গেন্ডারিয়ার আসগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এ টি এম শামসুজ্জামান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় মুগ্ধ এ টি এম শামসুজ্জামান পরিবার। মেজ মেয়ে কোয়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাবার চিকিৎসার ব্যাপারে শুরু থেকেই ভীষণ আন্তরিক। তিনি তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। এখন আব্বার চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নিলেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আমরা সবাই জানি, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিল্পীবান্ধব, গুণীজনদের কদর করেন—এটি তারই ধারাবাহিকতা।’

এর আগে কোয়েল আহমেদ বলেছেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য বাবাকে বিদেশে নিতে পারলে ভালো হতো। এখনো আব্বা যে অবস্থায় আছেন, তাঁকে যত তাড়াতাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়, ততই ভালো।’

চিকিৎসকদের মতে, এ টি এম শামসুজ্জামানের ফুসফুস এখনো খুবই দুর্বল। তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। এখানে অধ্যাপক মতিউল ইসলাম তাঁর চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছেন। চিকিৎসকদের মতে, ‘বিপদ এখনো কেটে যায়নি। যেকোনো সময়, যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’

একুশে পদক পাওয়া অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের দেহে সম্প্রতি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দুবার লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

0

Related posts

Leave a Comment