যে কোনও পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ মাদুরোর

6

যে কোনও পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বিরোধী নেতাকে দেশটির প্রেসিডেন্টের স্বীকৃতির পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাদের এ নির্দেশ দেন তিনি। নিজের শক্তি প্রদর্শনে রবিবার বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন ৫৬ বছরের এই বাম রাজনীতিক। এ সময় তিনি আসন্ন সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। মাদুরো বলেন, নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক মহড়ার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিভিন্ন ঘাঁটি পরিদর্শনকালে তিনি সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত রুশ হার্ডওয়্যার, এন্টি এয়ারক্রাফট ফ্ল্যাক, পার্বত্য এলাকায় ট্যাংকের মহড়ার মতো নানা সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষণ করেন।

এদিকে নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ দাবি করা ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদো সামরিক বাহিনীর সদস্যদের তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মাদুরো সরকারের পক্ষত্যাগ করলে তাদের ক্ষমা করে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন মদদপুষ্ট জুয়ান গুইদো।

সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন দেশটির বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদো। কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদোকে আমি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছি।’ কিন্তু রবিবার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করে নিজের প্রতি সামরিক বাহিনীর আনুগত্যের জানান দিলেন নিকোলাস মাদুরো। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশটির সামরিক বাহিনী যেদিকে দাঁড়াবে, ক্ষমতার পাল্লা সেদিকেই হেলে পড়বে। ফলে এদিক থেকে এগিয়ে আছেন মাদুরো।

সামগ্রিকভাবে সেনাবাহিনী মাদুরো সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার শীর্ষ সামরিক প্রতিনিধির ক্ষেত্রে। মাদুরোর সরকারের পক্ষ ত্যাগ করেছেন ওই সামরিক প্রতিনিধি। কর্নেল জোস লুইস সিলভা নামের ওই কূটনীতিক বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদোকেই স্বীকার করে নিয়েছেন। চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে প্রথম কোনও সেনা কর্মকর্তা হিসেবে প্রকাশ্যে পক্ষত্যাগের ঘোষণা দিলেন তিনি।

ওয়াশিংটন দূতাবাসে ধারণকৃত এক ভিডিওতে কর্নেল সিলভা ভেনেজুয়েলায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। ‘সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ভাইদের’ জুয়ান গুইদোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠায় সামরিক বাহিনীর মৌলিক ভূমিকা রাখতে হবে। ভাইয়েরা, দয়া করে আমাদের জনগণের ওপর হামলা করবেন না।’ রয়টার্সকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত তার ‘দুই ভেনেজুয়েলান ভাই’ও গুইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

জুয়ান গুইদো কর্নেল সিলভাকে ধন্যবাদ জানিয়ে অন্যদেরও তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কর্নেল সিলভাকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়েছেন।

কর্নেল জোস লুইস সিলভা নামের এই কর্মকর্তার পক্ষ ত্যাগ ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর সামগ্রিক অবস্থানে বড় ধরনের কোনও ফেলতে সক্ষম হবে না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সমর্থন না পেলেও যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির বলয়ে থাকা একাধিক প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সমর্থন পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদো। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের দুই মিত্র ইসরায়েল ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে তার প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। তবে আমেরিকার বাইরে রাশিয়া, তুরস্ক ও চীনের মতো দেশগুলো মাদুরোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জুয়ান গুইদোর জন্য এটা স্পষ্টতই অস্বস্তিকর।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এক ফোনালাপে নিকোলাস মাদুরোকে বলেছেন, ‘ভাই মাদুরো, আত্মবিশ্বাস রাখুন, তুরস্ক আপনার সঙ্গে আছে।’ বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ইভো মোরালেস বলেছেন, দক্ষিণ আমেরিকা আর যুক্তরাষ্ট্রের আঙ্গিনায় পরিণত হবে না।

এর আগে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন ৩৫ বছরের জুয়ান গুইদো। জুয়ান গুইদো প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের নাম ঘোষণার কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দেশগুলোকেও একই পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে সেই পরামর্শ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ গুইদোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স।