যাত্রীবাহী রুশ বিমান বিধ্বস্ত

36

মস্কো বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া রাশিয়ার সারাতভ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্সের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ড়োজাহাজটির ৭১ আরোহীর সবাই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা কর্মকর্তাদের।

রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা এএন-১৪৮ উড়োজাহাজটি রোববার বিকালে মস্কোর ডোমোডেডোভো বিমানবন্দর থেকে পাহাড়ি অঞ্চল উরালসের ওলস্ক শহর যাচ্ছিল।

উড়াল দেওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় মস্কো থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে রামেনস্কাই জেলার কাছে সেটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়। জেলার আরগুনোভো গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তারা আকাশ থেকে উড়োজাহাজের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখেছেন।

উড়োজাহাজটিতে ৬৫ জন আরোহী ও ছয় জন ক্রু ছিলেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

রয়টার্সে প্রকাশিত দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে বরফ আচ্ছাদিত প্রান্তরে উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

এক উদ্ধার কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রাশিয়ার তাস বার্তা সংস্থা জানায়, উড়োজাহাজের ধ্বংসস্তুপের পাশে মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার এয়ারলাইন্স সম্প্রতি কয়েকবছরে দুটো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

একটি হচ্ছে, ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর কৃষ্ণসাগরে তু-১৫৪ সামরিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা। পাইলটের ভুলে ঘটা ওই দুর্ঘটনায় ৯২ জনের প্রাণহানি হয়।

আরেকটি হচ্ছে, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবরে মিশরের সিনাইয়ে রাশিয়ান এ-৩২১ এয়ারবাস বিধ্বস্তের ঘটনা। ওই দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২২৪ জন। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস বিমানটিতে বোমা পাতার দাবি করেছিল।

এবারের দুর্ঘটনা ঘটা সারাতভ এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচলনা ২০১৫ সালে থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কিন্তু এয়ারলাইন্সটি এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আবেদন করে তাদের নীতি বদলানোর পর ২০১৬ সাল থেকে আবার ফ্লাইট চালু হয়।

এ এয়ারলাইন্সের বেশিরভাগ ফ্লাইট রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হলেও আর্মেনিয়া এবং জর্জিয়াতেও ফ্লাইট চালু রয়েছে।