কেইম্যান আইল্যান্ড থেকে আনোয়ার চৌধুরীকে প্রত্যাহার

216

কেইম্যান আইল্যান্ডের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার চার মাসের মধ্যে প্রত্যাহার করা হল যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কূটনীতিক আনোয়ার চৌধুরীকে।

এক যুগ আগে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আনোয়ার চৌধুরী যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ টেরিটরি কেইম্যান আইল্যান্ডের গভর্নর হিসেবে গত মার্চে দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন।

কিন্তু তার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ তদন্তের কথা জানিয়ে তাকে সাময়িকভাবে ওই দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার খবরটি জানার পর মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে এক মুখপাত্র বলেন, তদন্ত চলছে বলে এই মুহূর্তে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছেন না তারা।

আনোয়ার চৌধুরী কেইম্যান আইল্যান্ডের গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন সপ্তাহ আগে বলেছিলেন, কর্মস্থলে তিনি ‘ভালো’ই আছেন।

আনোয়ার চৌধুরীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এসেছে, সে বিষয়ে কিছু বলেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনোয়ার চৌধুরী ২০০৪ সাল থেকে চার বছর ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনার ছিলেন। ওই সময় সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে তাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা হয়।

ওই ঘটনায় তিনজন নিহত হন, আনোয়ার চৌধুরীসহ ৪০জন আহত হন। ওই হামলার মূল আসামি হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে ২০০৮ সালে ফিরে গিয়ে আনোয়ার চৌধুরী ২০১১ সাল পর্যন্ত ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউশন বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ওই দপ্তরের আরও কয়েকটি পদে কাজ করেন তিনি। ২০১৩ সালে তাকে রাষ্ট্রদূত করে পেরুতে পাঠানো হয়।
পেরুতে দায়িত্ব পালন শেষে কেইম্যান আইল্যান্ডে গিয়েছিলেন আনোয়ার।

কেইমেন আইল্যান্ডের আয়তন মাত্র ২৬৪ বর্গকিলোমিটার। এর রাজধানী জর্জটাউন; লোকসংখ্যা ৬০ হাজার।

প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, গভর্নরই এ দ্বীপের প্রধান। ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শে রানি নিয়োগ দেন গভর্নরকে। আর গভর্নর দ্বীপের প্রশাসন চালাতে নিয়োগ দেন একজন প্রিমিয়ার ও একটি কেবিনেট।

কেইম্যান আইল্যান্ডের প্রিমিয়ার আল্ডেন ম্যাকলাফলিন বর্তমানে লন্ডনে রয়েছেন, তিনি সম্প্রতি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরিজ বিষয়ক মন্ত্রী লর্ড আহমেদের সঙ্গেও দেখা করেন। তারপরই আনোয়ার চৌধুরীকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এল।

বিশ্বের অন্যতম ফাইনানসিয়াল সেন্টার হিসেবে পরিচিত কেইম্যান আইল্যান্ডের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয় – ব্যাংকিং, হেজ ফান্ড, বিনিয়োগ এবং ক্যাপ্টিভ ইন্সুরেন্স ও সাধারণ কর্পোরেট কার্যক্রম ঘিরে।

কেইম্যান আইল্যান্ড হলো বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম ব্যাংকিং সেন্টার যেখানে ২৭৯টি ব্যাংক রয়েছে এবং এরমধ্যে ২৬০টি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের জন্য অনুমোদিত।