অদৃশ্য হয়ে গেল পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী!

8

কলম্বিয়ায় মাত্র সাত দিনে কাউকা নামের একটি নদী উধাও হয়ে গেছে। এটি কলম্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী।

নদীটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩৫০ কিলোমিটার। এর তীরে বাস করে প্রায় এক কোটি মানুষ। যা কলম্বিয়ার মোট জনসংখ্যার ৫ ভাগের একভাগ। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাউকা নদীর পানি এতোটাই শুকিয়ে গেছে ফলে স্থানীয় হাইড্রোলজিস্টরা বলছেন, তারা এই নদীর পানিও আর মাপতে পারছেন না।

এর কারণ হিসেবে জানা যায়, কলম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পুয়ের্তো ভালডিভিয়া এবং ইটুয়াংগো শহরের কাছে একটা বিরাট হাইড্রো-ইলেকট্রিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটির জন্য কাউকা নদীতে বাঁধ দেয়া হচ্ছে।
গত বছরের ৭ মে সেখানে পানি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য তৈরি টানেলের কাছে একটি বিরাট খাদ তৈরি হয়। একই সঙ্গে ভূমিধস শুরু হয়। ফলে টানেলগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকৌশলীরা অনেক চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেননি। পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাঁধের অপর পাশে পানির চাপ বাড়তে থাকে। এই চাপ কমানোর কোনো উপায় তখন আর ছিল না। ফলে পুরো জলাধার পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

১০ দিন পর প্রচন্ড পানির চাপে একটি টানেলের মুখ আবার খুলে যায়। এরপর এতোটাই তীব্র বেগে ওই টানেল দিয়ে পানি ছুটতে থাকে যে, তা ভাটিতে ব্যাপক বন্যা তৈরি করে। ২৫ হাজার মানুষকে তখন জরুরি ভিত্তিতে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নিতে হয়। পরে জলাধারের উচ্চতায় পানি পৌঁছানোর পর কিছু ফ্লাডগেট তৈরি করে সেখান দিয়ে এই পানি ছাড়া হয়। এর ফলে শুকনো মৌসুম শুরু হওয়া মাত্র পানির উচ্চতা নেমে যায় অনেক নিচে। ফলে নদীর অপরপাশে পানি ছাড়ার কোনো উপায় আর রইলো না।

পানি কমতে থাকায় এ বছরের ১৬ জানুয়ারি অপরপাশে অবমুক্ত করার পানির পরিমান নেমে আসে প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ৩৯৫ কিউবিক মিটারে। আর ৫ ফেব্রুয়ারী একদম বন্ধ হয়ে যায় পানির স্রোত। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায় কাউকা নদী।